লেখক নয় , লেখাই মূলধন

দেবাশীষ সোঁ-এর কবিতা

তরঙ্গ


বিরোধিতার চেয়ে বন্ধুত্ব চেয়েছিলাম
পৃথিবী অত্যন্ত জটিল
মানুষগুলো কেমন যেন ঘোলাটে আজকাল,
মুখোমুখি উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে পরতে পারলেই তো স্বর্গসুখ!

তোমার বাঁধাধরা কোনো নিয়ম নেই
আর নিয়মেই বা বাঁধবে কেন!
দাঁতের ওইপাশে যতটা ক্ষমতা আছে ধরে রাখো
কাছে কাছে থাকা দুম করে শেষ হয়ে যেতে পারে
অস্বাভাবিক মোটেই নয়

ভুল বোঝো না মামন
ভুল বোঝো না আমায়
জানোই তো,
ঘেঁটে যাওয়া মানুষ এমনিতেই এলোমেলো কোদাল চালায়


খুঁটিগুলো ক্রীতদাস
দাঁড়িয়েই থাকে
দুনিয়া হিসেবি আটচালা

বলো কে কার ভার নেবে!


আলোয় আনতে চাইছ কেন
যে মানুষটা ঘেঁটে থাকে
যে মানুষটা জ্বলতে থাকে
যে মানুষটা শুয়োরের মতন জীবন কাটায়
তাকে আলো নয়, ঘেন্না দাও
ছুঁড়ে ফেলো তাকে
মরা জীবনের পাশে ফুল নয়, রক্তচক্ষু দিয়ে বলো—
ঠিক হয়েছে, এটা হবারই ছিল

আমি খুশি হব
বুঝে নেব দেওয়ালের বয়েই গেছে পেরেকের দাগ ধরে রাখতে


ওসব মাদুলি ফাদুলির কাজ নয়
মাকে বলেছি ওসব হাতেই রাখব না
যে ঘরে সরীসৃপ ঢুকে বদলে দিচ্ছে পাঁশুটে নদী
ভুল বকা সহ্য করতে করতে নীরব হচ্ছি
সেখানে শুদ্ধিকরণ ট্যাঁকের পো

সবকিছুই আবছা
যে গর্দান চেয়েছিল নীল চৌকাঠ,উপড়ে ফেলেছি
তোমাকে ডোম হতে দিতে পারিনা
শরীর, বয়ে নিয়ে যেও না
সমাপ্ত করো , বাইরে বাজতে থাকুক “ও যমুনা নীল যমুনা…”

আমি শুদ্ধিকরণ চাই না
আবছা হতে চাইছি কেবল …


পাড় ক্ষয়ে যাওয়া অনেকটা পরিবারের মতই
বড়ো হবে উপত্যকা
গভীরতা হারিয়ে ফেলবে জীবন

যে মানুষ বাঁচতে চায়,
সতর্ক হয় আগে থেকে
হাতের মুঠোয় নিয়ে আসে আদিমতা
খেলা দেখায় স্মৃতি উপড়ে নেবার

বিহ্বল নদী বিবাদ পড়ো,
মানুষের মন না…
বড়োসড়ো ঘোমটা কোনোদিনই সংস্কৃতি শেখায়নি কখনো
লিখেছিল পরবর্তী হোঁচট

ছল

নদী কি কখনো ভেবেছিল নিজেই ভেঙ্গে শাখা হয়ে যাবে?
আবার দূরের কেউ হাত ধরে বলবে সাথী হলাম মোহনাতক!

কথা কি একতরফা শেষ হয়!
বাদানুবাদের মাঝখানে দৃঢ় হয় বিষমাখানো তির
সময়টা কেবল বয়ে যায়

ইঁদুর কি ভেবে ফ্যালে সে পাহাড় টলিয়ে দেবে?
তবু ঝুরঝুরে হয় মাটি
একদিন ধসে যাওয়ার খবর নিয়ে বেড়িয়ে পরে মায়ানদী
দ্যাখো হাহাকার
দ্যাখো হাহাকার
হাহাকার মোহনাময়…

রিল

জল ঝরছে
উলটে পালটে শুকোতে দেওয়া থেকে পরবর্তী কাচের নিরবতা আমার
পিলসুজের আলো
একটা ছোটো বৃত্তজুড়ে মনখারাপ উদ্ভাসিত…

হেরে যাওয়া মানুষের ঝুলিতে লুকিয়ে পড়ে
পুনর্জীবনের এঁটোকাঁটা
প্রতিবিম্বে তখন নগরপথিক নীল হচ্ছেন পূর্ণচ্ছেদে

ভালো লেগেছিল সেদিনের নরম স্বীকারোক্তি,
নৈঃশব্দ্য ভেদ করে উপাসক বললেন
ঠিকই তো, ভাল লাগে কি বলুন রোজের চোপসা স্নায়ু!

সারাতে গিয়ে টায়ারে লিক না পেলে তোমার মনখারাপ
ফিরে আসে চাকায়,
ক্লান্ত জীবন মিশে যায় দৃশ্যান্তরে

সাইন ৩০ ডিগ্রি

আলজমিতে ঘুম সাজিয়ে রেখেছেন বাবা
ওপাড়ের জল শুকিয়েছে গরম আসতে না আসতেই
মাঝখানের জমিটুকু রুক্ষ, এবড়োখেবড়ো
মা যতবার জল নিয়ে ছিটিয়ে দিতে গেছে ঘুমের কাছে
ঘুম চ্যাটচ্যাটে হয়ে উঠেছে।

এই তিরিশ বছরে ঘুম ভাঙানো হয়নি একবারও
চাষের জমি রুক্ষই রয়ে গেছে

এই মূহুর্তে আমি ভাবতে পারিনি রূপালী চাঁদ,
এই মূহুর্তে ভাবতে পারিনি ব্যালকনির হাওয়া
এই মূহুর্তে ভাবছি মাঝখানের মই
ঠায় দাঁড়িয়ে আছি
বুঝেছি দুদিকের হাওয়া বেশ টলোমলো।

অর্গাজম

ঘুম জাগিয়ে জোনাকি সুগন্ধের আনাগোনা দেখল সারারাত। ভাবল এই রাত মধুর। খুঁড়ে খুঁড়ে চেখে নিল নিজের মধ্যবিত্ত বয়স। শ্যাওলা ধরা ঢেউ যাকে সে বন্ধু পাতিয়েছে, তার খবর নিতে হবে। শরীর বেয়ে নেমে আসা জলে তুফান ছিটিয়ে আসতে হবে। একটু একটু করে ভাব ফুটছে। মেলামেশা হয়ে উঠছে তরল। গা ঘেমেছে পাথরের। সামনে আসন করেছে পোয়াতি বউ, একে একে ঝরে পড়ছে শিরশিরানি। পেটের মাঝে নবজাতক খিলখিলিয়ে যাচ্ছে। সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে আকাশে। আরও ঢেউ দাও আরও… সময় ছাড়িয়ে জ্যেৎস্না নেচে উঠুক তালে তালে।

দেবাশীষ সোঁ-এর কবিতা

আমাদের নতুন বই