লেখক নয় , লেখাই মূলধন

দেবোত্তম গায়েনের কবিতা

কমলালেবুর ভিতরটা নড়ছে…


শরীরী অস্তিত্বের জাগ্রত রূপ এই প্রাপ্তি। কিছুটা চেখে দেখে অনাড়ম্বর গাছের নাচ ও মুদ্রা কৌশল রপ্ত হলো। ঘুমের মধ্যে যে তুমি স্বপ্ন দেখবে তাকে বিচার করে অনাদর করা হয় নিজেকেই। সবটা সকাল সবটা মানুষরূপী! তোমাকে সেই ফিরে আসতেই হবে। হে ঋষি বীজের ধারনা আমার নেই। চাইলেও আমার মুক্তি পাথেয় নয়। জপের আড়ালে পাপ-প্রেম-শরীর সবটাই যে কর্পূরের মতো উবে যায়। নশ্বর নশ্বর!


অনেকটা দূর। জেগে আছি এটুকুই এযাবৎ আপেলের মধ্যে ধরা থাকবে। মানুষের জন্মের বহু আগেই তো ঠিক ছিল সে মানুষের থেকেই সরে যাবে। সরে যাবে পাখিরব সুরসমুদ্র থেকে। মেটালিক গাঢ় হচ্ছে ইতি টানছে বাঘের প্রিয় স্বাদ। খাদের কাছে খাদক এই দূরত্ব মিটিয়ে নিচ্ছে নির্বাচনের আদলে। খাদ্যের আগে সু জুড়ে দিলেই তা মানুষের অধিকারে; বাকি রাষ্ট্র যা ঠিক করবে।


প্রজাপতি। অলীক সে-রঙের প্রতি ছুটে যায়। রং চেতনার উলটোদিক। মানুষের বিভাজন হত্যা দিয়ে হলে ফুলের মরশুম পালটে যেত। প্রিয় শব্দের আড়ালে কত সত্য যে মারা যায়। জ্বলে দাউ দাউ করে মেঘ করে আসে এমন দাবানল। পাখিদের ছুটে যাওয়া মানে তানসেন দুঃখ পেয়েছেন। আপনি…


নিজের পাশে ঘুমিয়ে আছে সে। ভয়। রক্ত মিশে গেলে আয়না ঢেকে দিন। আপনি নিজে যে ভয়টা পেতেন না সেটা পাবেন এবার। প্রস্তুত হয়ে দাঁড়ান। স্নানের ধর্ম শুধু ধুয়ে দেওয়া নয় এক জায়গার পাপ আরেক জায়গায় প্রবাহিতও হওয়া! চোখের আগে অসংখ্য মুদ্রা এভাবেই মানুষকে বুঝিয়ে দিয়ে যায় জল বড়ো বিপদসংকুল।


এই এমন এক স্বধর্মদ্বেষী আমি খুঁজে বেড়াই লড়াই করার অস্ত্র। সামনে অগণিত গুহা। গুহা থেকে কখনওই কিছু আবিষ্কার না হলে, আমিও এভাবে অস্ত্র খুঁজে খুঁজে— আমাকে কেউ একজন বিশ্বাস করুক চাইতাম না! আমি তো জানতাম পরে কখনও এই গল্প বোবা হয়ে করব। সংকেত যা আদিম এবং পবিত্র!


আছড়ে পরার আগে অস্তিত্বই যদি না থাকত টিকে থাকার সম্ভাবনা বীজের মধ্যে করে ঘুরে বেড়াতাম। যেভাবে এই সম্পর্কগুলো গুটিকয় খোলস এর মধ্যে। যারা বেরুতে চাইলেও দু-হাত দিয়ে দরজা খোলার কেউ নেই। স্বর প্রকাশ্যে আসার আগেই গাছ তার আধার ছেড়ে দেয় পালঙ্ক বিক্রেতার কাছে। আপনি জানতেন সবটা।


আগুনের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রিয়া বলতে সবটাই মুক্তির জন্য। মানুষ এর আভাষটুকু পেয়েছিল বলেই একটা দিকে ভাগ হয়ে গেল। কিছুটা এইরকম; ফলের বীজের ধরন যা দেখে মানুষ কখনও চিন্তা করেনি শুধু অভ্যাস করেছে খাদ্য। দানা ও শস্য। তফাতটা বুঝতে পারছেন তো…


সেভাবে গতকালের মতো আর তাকে বলতে শুনলাম না, “বুকের মধ্যে দুঃখ জমিয়ে মানুষ পায় কেউ”— এই অভিব্যক্তি তে আমার কোনো হাত ছিল না। জলের গভীরতা মাপতে গিয়ে মানুষ রত্ন পায়, রত্নের গভীরতা খুঁজতে গিয়ে মানুষ ঋণী হয়ে পড়ে।


সময় পেরিয়ে যায়। মানুষের সঙ্গে কারুর যুদ্ধ হয়ে উঠল না। কী অবিরাম দুঃখ এই টলটল করে ধাক্কা খায় পাড়ে। নিকষকৃষ্ণ ধারা, ঝুপ করে কেউ পড়েছে চোখের মধ্যে। বিরহ জানাব জানাব নিশ্চুপে সে ঝিম নিয়ে আসে। মায়া পড়ে যায়! মনে হয়। মনে হয় মানুষের প্রেমের মধ্যে ভ্রমরের নজর পড়েছে। ক্রমশ সে চোখ থেকে বাসা বাঁধা শুরু করে, অন্ধ! অস্তিত্বটুকু মাটি বইকি!

১০
আজব, দেখছ কী আমাদের হাতে কোনো অবসর নেই এখন। ঘুরছি, ঘুরেই চলেছি। পরিক্রমার একটা শেষ থাকে মাঝে কতোগুলো হত্যা। সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে থাকলেই তা সেতু যেমন হয়ে যায় না, তলায় তলায় একটা শূন্যতা লাগে, ঠিক সেইভাবেই কমলালেবুর ভিতরটা নড়ছে। ঢক্ পক্। জলের আধার ভাঙলে মানুষ তার স্বর-স্বপ্ন-শয্যা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে। ভেবে ভেবে সে-ও বেরিয়ে পড়ে এই আবাদে। আগে আগে পিঁপড়ের দল পিছনে সে…

দেবোত্তম গায়েনের কবিতা

আমাদের নতুন বই