পল্লব ভট্টাচার্যের কবিতা

শাস্ত্র অনুযায়ী, সমস্ত ক্রিয়া কর্মের আগে ও পরে
হাত ধুয়ে নিতে হয়; যাতে
কৃতকর্মের কোনো দাগ না লেগে থাকে।

আমি হাত ধুয়ে নিয়েছি।

হাতের মাধ্যমে কিছু ত্রাণ মাত্র পৌঁছে যায় দাতা থেকে গ্রহীতার কাছে।
হাত যে কিছুই নয়, দাতা বা গ্রহীতা, একথা না জানা হলে,
আত্মপ্রচারের মূর্খ অহংকারে ভাঁড় হয়— বাঁচা।

তুলসীদাসজী থেকে একথা শেখার পর, লজ্জ্বায় নুয়ে আসে মাথা।

‘আমি নই, হত্যাকারী এ হাত ইন্দ্রের’— বলে পুরাণকথার সেই ব্রাহ্মণও
আমার মতোই স্বস্তি পেতে চেয়েছিল। অথচ, ‘এ পুষ্পিত উদ্যান
কার যে নির্মান!’ —বলে দাঁড়াতেই, সে যখন বলেছে, — ‘আমার’—

তখন ইন্দ্র মানে, আমিত্ব, অহং; তাকে নিতে হয় সৃষ্টি ও ধ্বংসের ভার।

‘পবিত্র বা অপবিত্র যে অবস্থাতেই হোক, তাঁকে যে স্মরণ করে,
সে-ই শুচি, অন্তরে বাহিরে।’ —এই উচ্চারণ শেষে, বিশাল বিস্তারে
এসে দাঁড়িয়েছে শুচি-শুদ্ধ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ ।

তবু অবিশ্বাস টিপে ধরে আমাদেরই গলা ।

শ্রীমদ্ভাগবতে লেখা, ক্ষুধা ও প্রয়োজন অনুসারে
খাদ্য পাওয়ার অধিকার দেহীমাত্রেরই রয়েছে।
এর বেশি যে অধিকার করে, সে দন্ডযোগ্য।

দন্ডদাতার মূর্তি আমারা বানিয়ে নিয়েছি অপাণিপাদ।

পল্লব ভট্টাচার্যের কবিতা

আমাদের নতুন বই