প্রশান্ত গুহমজুমদারের কবিতা

অপার

১১

মীড়ে, গোলাপ সুবাসে। এবং অভূতপূর্ব। পর্দায় অতিরিক্ত বাতাস ছিল কী? নতুবা এমন নগ্ন কী প্রকারে! কাল হইতে কালে, নৃত্যের মঞ্জরী! অশেষ নির্মাণ, আলোতে ছায়াতে। সে বাজারে ভালবাসার কথা বলিতেছে কাকাতুয়া। তিনটি বছরের। সে তোমাকে সম্যক চেনে। শীৎকার, চিহ্নসব বহু দিন ও রাত্রে। আনন্দে, ক্ষোভে, বিষাদে। খাঁচাটি কেবল ছিন্ন পালকে, রক্তে। আমিও দেখিতেছি। বর্ষায়, মেঘে, তুমুল শরতে। ক্রমে অনিবার্য করাত।

রক্ত, শুকনো, দুই হাত জুড়ে মাখি

১২

ঐ খেলার ভিতরে, তুমি জানো, অপরাহ্ন এবং লোভ, কোনটাই প্রতুল ছিল না। তদবধি নূপুরে কেবল অধীর এবং বিজিগীষা ছিল। আশ্রয়ের কথা বলিতেছি না। অবান্তর ছিল পালকের গল্প সেই যুদ্ধে। তুমি স্পর্ধার কথা আলোচনা করিয়াছ। তুমি ওষ্ঠে আমলকি রাখিয়া পলায়নের কথা বলিতেছিলে। ছবির কথা ওইখানে ছিল না। তবে ত্রিমাত্রিকতায় আমি সে আলোয় আক্রান্ত। স্নান অথবা যুদ্ধ তখন পর্দা জুড়িয়া খেলায়। মনে পড়ে? সে কালে অন্য এক অলোকদৃষ্টি আমাকে ছুরি অবধি প্রণোদনায়। রক্তের পরবর্তী কাহিনীসকল বিছানার বহুদূরে, অরূপে।

রক্ত, শুকনো, দুই হাত জুড়ে মাখি

১৩

যোগের কাব্য উঠিয়া আসিতেছে। আসে, যে সময়ে বিয়োগ বাজিতে বাজিতে সন্ধ্যার দিকে। ভাঙা পথে। পরাণের সাথে কেহ কি খেলিতেছিল? প্রবেশের পথে যেমন পিপিলিকা? পথে পথে কেবল বিভ্রম। তুমি কি এমনই বলিয়াছিলে! পুরুষের এইসব বিবরণ? তুমি তো দেখিয়াছ কাঠগোলাপের তাবৎ আগ্রহ, নতুনের গন্ধে ভেজা কীট, কিছু অবাক রচনা। প্রবেশে ছিল পিপীলিকা? কেবল বিভ্রম, সন্ত্রাসের। পুরুষের কথাই কেবল রটিতেছিল। সে দেখিয়াছিল, গোলাপের দিকে যায় সভ্যতা, ভেজা মেষ, কিছু বিদেশি রচনা। কোনো খেদ নাই। যেহেতু পূর্বেই কাঁদিয়াছিল তারাসুন্দরী। এবং ফুলন। বিশেষণসহ। রক্তাক্ত অশ্বত্থে যায়, ন্যূনতম বাক্য ব্যতিরেকে। এখন ঈষৎ জঙ্গলে শুধু ভিড়। রক্তের গন্ধ আছে না! নির্বিকার

রক্ত, শুকনো, সেই দুই হাত জুড়ে মাখি

১৪

সেখানে যুদ্ধের কোনো গল্প ছিল না। বোধকরি, অপসৃয়মান ছিল সেই গল্পকুঠার। সামান্য সংকোচ ছিল, জলের যেরূপ থাকে, সম্মাননার। আর একটি নৌকার ছায়া। যেহেতু জলের শব্দ। তোমাকেই আড়াল করিয়াছিল ডুমুরপাতা, কিছু বিভ্রমে। আমি তো বিসর্জনের শব্দে রাত্রি লিখিতেছিলাম। অসামাজিক এক প্রত্যুদ্গমনের কথা। মৃত্যুর কথা, হত্যার শপথ কদাপি অনতিদীর্ঘ ছিল না পথে। কেবল এক ঘরের কথা। ঘর হইতে উঠানের, সিঁড়ির, পাথরের, সন্ধ্যার কিছু পূর্বেই, ইত্যাদি। সে কালে বেলুনের আড়ম্বর চিত্রপটে ছিল না। তথাপি কী এক বিস্ময়ে

রক্ত, শুকনো, দুই হাত জুড়ে মাখি

১৫

সব নয়। কিছু রাখো। হয় রাখতে। শূন্য সঙ্গত নহে। অথচ সবুজে সাদায় আজ দ্যাখো কেবলই বিরোধাভাস। গেলাসের ছায়াগুলি কালো, নৃশংস, অকিঞ্চন। বস্তুত রং নয়, অন্ধকার ঝাঁপ বেঁধে আছে টেবিল অবধি চরাচরে, এই সিদ্ধনামে। এবং একজন বালক বহুদিন অন্ত করে খুঁজিতেছে একটি মুদ্রা, যাহা স্নানকালে স্থির ছিল জলে, অশ্রুতে, একার ছলে। খুঁজিতেছে চুলে, ত্যক্ত মায়ায়। খুঁজিতেছে বৃন্তের অদূরে, বাদামি স্বপ্নে। প্লাবনে, নোনায়, ক্লান্তিতে। এমন ছিন্ন তাহাকে কে স্পর্ধা করিল! ক্রোধ হয়। দ্বিপ্রহর, নাগরিক শীত এবং শূন্যতা সে পুনরায় যুক্ত করিতে প্রয়াস করিবে! অথচ অযৌক্তিক

রক্ত, শুকনো, দুই হাত জুড়ে মাখি

প্রশান্ত গুহমজুমদারের কবিতা

আমাদের নতুন বই