বিদ্যুৎ করের গুচ্ছকবিতা

স্থির

সকালের আলোয়
সব কথা পাখি হয়ে যায়

সন্ধ্যা এলে
সব কথা নদী হয়ে আসে

নদী ও পাখিকে না বুঝে
আমি সহজ শূন্যের কাছে যাই

তার নীচে অসংখ্য বিস্ময়
অযুত নিযুত বছরের ভিড়

আমাকে স্থিরতা দেয়…

দেশ

যে-সব কথা হাওয়ায় উড়ে যায়
যে-সব কথা ধুলোয় মিশে থাকে

আমি মুঠো করে আনি

ভরে ওঠে দরমার বেড়ায় ঝোলানো
পিতলের পুরোনো গন্ধের মতো একটা দেশ

শাদা বকফুল গাছের নীচে দাঁড়িয়ে থাকি
ঝিরিঝিরি করে পাতা ঝরে; হলুদ পাতা

স্নান সেরে যেন
দাদু অথবা তাঁর দাদু ঝুলি কাঁধে নিয়ে চলেছে
হাওয়া অথবা ধুলোর মধ্যে দিয়ে …

দুপুর

আমি যে কাঠঠোকরা পাখির কথা লিখি
সে তো বুকের মধ্যে দুপুর হয়ে থাকে

অথবা দুপুরের রোদে সুপুষ্ট পাখির ডানা

সোনাকড়ির বিল পেরিয়ে
ছোলা ভুঁইয়ের গন্ধ মেখে
সহজ তার উড়ে যাওয়া

প্রতিটি ঝাপট
একখণ্ড বিষণ্ণ বাতাস যেন

যেন এই সম্ভবনাময় ভূমিতে দাঁড়িয়ে
আমি বিভিন্ন জ্যামিতিক কোণে ছায়া খুঁজি

আর প্রখর রোদে জ্বলে যায় মাইল মাইল বিবাহিত মাঠ

দিঘি ও জলের ধর্ম

জল— সহজ সুরের মতো এঁকে বেঁকে এসেছি দেখি ক্লান্ত এক দিঘির কাছে। দিঘি তো চাতক নয়, যেন এক নির্বাসিত আগাছার বন। ঘাট নেই, বেঘাটেও ব্যস্ততা নেই— অন্ধ মুনি ও হরিণের অস্পষ্ট অন্ধকার নেই। কেবল টাওয়ারের খোঁজে মাঝে মাঝে এ পথে আসে রুগ্ন যুবক। পাখির পায়ের ছাপ দূরে দূরে চলে গেছে এখন তাদের বানপ্রস্থ জীবন

আশ্রয় কতটা প্রয়োজন? কতটুকু সময় পার হলে স্থায়ী হয় ক্ষুধার্ত যাযাবর? এইসব কথা ভেবে ভেবে এক বেসামাল সন্ধ্যায় রাঙা হয়ে এল জল

অথচ দিঘির তো বালি বালি বুক
দিঘির তো বালি বালি মন!

জল গড়িয়ে যায়। জল কেবল গড়িয়েই যায়
তুমি দেখো বাস্তু দোষ আর জলের ধর্ম শুধু

পৃষ্ঠটান

চৈত্রের দুপুর থেকে একটি উড়ে যাওয়া আঁচল
আলগোছে গুঁজে দিই বাতাসের নাভিমূলে
আমার ভেতর থেকে
পরাজিত মানুষেরা
একে একে জড়ো হয় বোধিবৃক্ষ থেকে নিশি কদমের তলে

আরো কতবার যেন
সূর্যের কাছাকাছি চোখ নিতে গিয়ে
কারো হাতে এসে পড়েছিল সুঠাম আলোর স্তন

প্রতিজ্ঞা রক্ষিত হয়নি আর
কোনো প্রতিজ্ঞাই আর রক্ষিত হয়নি যেমন
ভীষ্মপর্বের পর

বিদ্যুৎ করের গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই