লেখক নয় , লেখাই মূলধন

মনোতোষ বৈরাগীর গুচ্ছকবিতা

প্রতীক্ষা

অনেক তো শীতঘুমে আড়ষ্ট থেকেছ
উঠে পড়ো,
উঠে-পড়া ভীষণ জরুরি
মায়া কি পেরেছ ভুলে যেতে!
সবাই বকের সাজে মাছ গুলো ছিঁড়ে ছিঁড়ে এঁটো-কাঁটা নয়ছয় করে
অথচ সকালে দেখো, বিলি কেটে-কেটে
কেউ এসে ভাগশেষ মুছে দিয়ে যাবে

ঈর্ষা

বিরহ বৃষ্টিতে
ছইয়ের ভেতরে থেকে উঁকি দেয় বধূ। ডুরে শাড়ির আঁচল তার ভিজে গেছে জলে
খুকুমনি নদীটিতে
আমাদের ভাসতে ভালো লাগে
আমাদের ভালোবাসতে ভালো লাগে
ওগো মাঝি, এবার তো পারাপার করো
অত কি নোঙরজ্বালা সইতে পারি বলো!

আবাদ

আমার জানালা থেকে সুপুরের প্রান্ত দেখা যায়
বিস্তির্ণ যৌবনে
চৈত্রের নিঝুম ধান খেত
দুঃখকে সন্তান ভেবে পালন করেছে যারা
এবারও তাদের লাভ হল না কিছুই
তবু বাড়ি ফিরে দ্যাখে
বধুটির পরিপাটি হাত;
তখনই সমস্ত গ্লানি নিংড়ে নিয়ে গেছে কাকে,
রং তার কালো

আশিস

ঘুমোতে যাবার আগে বাবাকে স্মরণ করে নিই
মাকেও; ওঁদের মুখ কেমন ধূসর হয়ে গেছে
বিষম খেয়েছি।
এমনই হওয়ার ছিল বুঝি!
প্রতি রাতে আধপোড়া চাঁদ এসে
বিছানায় শোয়, পিঠ স্পর্শ করে
সোহাগ বুলোয়
স্পষ্ট শুনতে পাই,
সূর্য অস্ত যাচ্ছে দেখে ভেবো না সরিয়ে নিচ্ছি হাত

সম্মতি

চলো, ফুল তুলে আনি
ফুল?
নাকোচ করেছি
বেবাক তাকিয়ে আছে দোয়েল, কোকিল
এদেরই বসন্ত নেই বুঝি!
যেটুকু প্রণয় ব্যথা সেটুকু গাছের থেকে বড়ো
যেও না যেও না!
নদীর আকুতি দেখে ভালোবাসা স্বীকার করেছি

মনোতোষ বৈরাগীর গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই