লেখক নয় , লেখাই মূলধন

রঞ্জন মৈত্রের কবিতা

সাইকেল-১

জানি সেই ছাদ কলমে আসবে না
মাঝে আর শব্দটি সরিয়ে দিয়েছি
ছাদ ছন্দ ছত্রাকার না হোক
রোদে ভেপার আলোয় দাঁড়িয়ে পানিট্যাংকি মোড়
বিপুল গতির মধ্যে বেঅকুফ ফুলস্টপ
গায়ে লাগা গলি এবং পুনর্গলিটি
প্রতিবার চাদর পাততেই খাট এবং
লাগোয়া জানলা আমার হয়ে যায়
ওপারে ঝাঁকড়া গাছ
মাথায় দোয়েল পায়ে হাবা সাইকেল
কলমগুলি তাকে ডাকছে শুকনো ফাইলে
ট্যাংকিগুলি বলছে জল দাও জল দাও

সাইকেল-২

যেন জন্মে ওঠার মধ্যেই বাসাটি ছিল
অম্বুজা সিমেন্ট বালি তূলিতে কলমে
ওই তো ভালো উঠল সাতসকালে
লালচে লাল চায়ের চেয়ে কিছুটা অরুণ
কিছুটা সাইকেল আর পিচের ভাষায়
রাস্তার পদ্যে গদ্যে বাংলা উল্লাস
নেশা হয় সে তো ছিলই চাইবাসায়
দু’ কানে সমুদ্র আর উদ্দাম সাইকেল
বাজাতে শেখালো সে এক ভোলা মিস্ত্রি
বাসায় বসে বাড়ির হয়ে ওঠা বলত
যখন দুধ ধীরে এগোচ্ছে লিকারের দিকে
কাঁচা সিমেন্টের জন্য বর্ষা করে জল
শাঁখ বাজিয়ে কত ছায়া এসেছে ছাদে, একটি চাঁদও

সাইকেল-৩

হাত নাড়তে নাড়তে বলছি দীঘা
জেলাহীন সাইকেল আর ভূগোলহীন চাকা
সবখানে সবখানের পর একটি টান আছে
সেইমতো চড়ার নিরেসা
সেইমতো বিনির্মাণ ফিরে যায় নির্মাণের কাছে
নৌকোর নিচ থেকে ফুলে ওঠে জল
কত কত মুখ ভেঙে একটি সাইকেলের হয়ে ওঠা
ওড়না ভেঙে ধ্বনি করা ঝাউ ক্যাসুরিনা
হাত আমিই নেড়েছি আর
সি ইউ সি ইউ ব’লে দীঘা যায় মাঝদরিয়ায়

পরীক্ষা

টেবিলটা ফিরিয়ে দেব তোমাকে
সেই আমার টেবিল হয়ে ওঠা
একটি কবিতা ও চায়ের কাপ
কী বোর্ড এবং হাতখানেক জ্যোৎস্না
তাহলে জানলা পেলাম
আমাদের বেড়ানোগুলো যখন ভাইরাসে বন্দি
অম্লান পেলিং ছেড়ে এল
আশা আগেই এসেছে
বাচ্চা এদিককার স্কুলে দাখিল
টুপটাপ খবর এসে পড়ছে সাদা কাগজে
বাইরে ছড়িয়ে যাচ্ছে আলোর কয়েন
টেবিলটা ফিরিয়ে দেব
সেই আমার কবিতা হয়ে ওঠা

নিরীক্ষা

ভূমধ্য ঠিক কোথায় শুধু সাগর জানে
লিখে বেশ ঝকঝকে লাগল
সাগর এক মুদির দোকানী
সারা সকাল ডাল নুন বেঁধে
দুপুরে ভাত খেতে বাড়ি যায়
তো এই তক পরীক্ষামূলক
তারপর ঢেউ খুঁজি
সে তো ক্বচিৎ দুম ক’রে রেগে
আবার নিরীহ হওয়া প্রাণ
খুঁজতে খুঁজতে বিকেল পাঁচটায়
ওই তো দিকবিদিক বালি পেরিয়ে সাগর আসছে
দোকান খুলবে
দোল খায় দাঁড়িপাল্লা
মধ্যের কাঁটাটির স্থির হওয়া দেখতে দেখতে
শব্দে শব্দে কতবার সাটার নেমে আসে

রঞ্জন মৈত্রের কবিতা

আমাদের নতুন বই