লেখক নয় , লেখাই মূলধন

রাখী সরদারের গুচ্ছকবিতা

সত্যদ্রষ্টা ঘোড়া ও একটি গমক্ষেত

সুপক্ক গমক্ষেতের ভিতর
পড়ে আছে ক্ষুরধ্বনি। অশ্বটি
জানি না কোথা…

আমার আঙুল ছুঁড়ে ছুঁড়ে
তার কেশরে বুলাই হাত
কেন বাদামি রঙে এত বিষণ্ণতা?

উত্তরহীন খয়েরি চোখ! দুরন্ত প্রস্ততি নিচ্ছে…
সভ্যতার লাল বাঁকে চিঁহি চিঁহি ধ্বনি।

নিসর্গের গুহা ভেঙে উড়ে আসছে ধূলো
আমি পায়ের মোড়ক খুলে
ছুটছি বেথেলহেম, চিন।
এত এত হেলানো পাথরে জোর ধাক্কা…

করোটিকে পাশে রেখে
ঘুমাতে ঘুমাতে শুনি পেটের গভীরে
তীব্র ক্ষুর— ঝনাৎকার। স্থির চোখ দেখে

আমার পুঁজভাণ্ড ফেটে পড়ার আগেই
খুনিটা আমাকে পিঠে চাপিয়ে
ঢুকে গেল অঙ্কুরহীন গমের মধ্যে।

ওষুধবিহীন ঘুম

অপদস্থ রাত ঘুম।
কয়েকটি ফড়িং ও এক হরিণ নিয়ে
জুয়ার আড্ডা বসেছে।

একে একে জড়ো হয় ভিন্ন ঘরানার প্রাণী।
খসে পড়া নীরব নক্ষত্র… কিছু বয়স্ক ঈগল,
বুক ঘসে ঘসে আসা কটা রমণীয় লতা।

রাতভোর অমাবস্যার গল্প, ও থেমে থাকা
ঘুম নিয়ে অসম্ভব টানাপোড়েন।

মাঝেমধ্যে আমার চিন্তায় ডেকে ওঠে
রাস্তার কুকুর।

কীভাবে স্বপ্ন এল জানি না!

আমার পায়ের পাতা থেকে
পাকিয়ে পাকিয়ে উঠছে ধোঁয়া,
পাশে পোড়া হরিণের গন্ধ, আর শোনা যায়
কিছু নিদ্রালোভীদের কান্না।

এমন পরিস্থিতিতে মনে পড়ে যায়
দোকানে কোন ওষুধ ছিল না।

পুনর্জন্মের আঙুল

বালু ঝড়ের গভীরে
চাপা পড়া বাদামি আঙুল
খনন করতে করতে লক্ষ আলোকবর্ষ পার।
তাও সন্ধান পেলাম না।

এদিকে বেশ কয়েকটি জন্ম
মরুছায়ায় অপেক্ষারত। দগদগে রোদের জটলা
তাদের গলিয়ে দেওয়ার জন্য ব্যস্ত।

কীভাবে সুস্থির থাকি?

সময়কে ধমক দিয়ে ঢুকে পড়ি
জন্মের অস্তিত্বে। সে কী দাপাদাপি!
কাজকর্মের ঝনঝনানি!

বালি ঝরে ঝরে গড়ে উঠছে
গোটা দেহের সাম্রাজ্য। চোখ, নাক,
ধূসর মুখশ্রী। এমনকী হারানো আঙুলগুলো।

যার প্রত্যেকটি নখের মধ্যে
তখনও বিগত ব্যর্থতার মাটি লেগে।

বোধ

আমর এ হাত পূর্ব সন্ধ্যে ছুঁয়ে ক্ষীণ

আরেকরকম রাত্রি খোঁজে, যার নীলকমল
চোখে বিস্ফারিত তারা, ঠোঁট বিষাদেও পূর্ণ চাঁদ
দেহ জুড়ে নিভৃত আদিম।

ছোঁয়ামাত্র বেজে ওঠে সঙ্গমের গান
কী নিষ্ঠুরে সমর্পণ! পুড়ে যাচ্ছে দেহ
অহং এ আলো আর আলো…
ঘুম ভাঙা আকাশের দিকে কিছুতেই
তাকাতে পারি না…

হে দেবী, শেষবার ক্ষমা করো
আমার এ হাত কোনদিন তোমাকে ছোঁবে না
দাউদাউ সর্বনাশে বুঝেছে—

যা কিছু আলো ও কালো সবই
সময়ের সম্মোহন।

রাখী সরদারের গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই