রুদ্রদীপ চন্দের কবিতা

অপমান জাতক


আপনার ফোনের প্রতি রিংটোন জীর্ণ, ক্ষয়মান।
ধুঁকতে থাকে নাভীশ্বাসের মতো। অবিশ্বাস যেটুকু
তার কাছে অধিকৃত তিল শুয়ে আছে।


প্রতি পদক্ষেপে জামা পালটে পালটে আপনার কাছে আসি
বক হয়ে দূরে সরে সরে যান অথচ সাদা পাখার কাছে
আশ্রয় বিধিসম্মত।
কার কাছে আশ্রিত হব? অপমানিত নিদ্রাভূত


গাঢ় হয়ে মিশে গেল শেষ ধ্বনি
বাকি আছে রং চিনে নেবার পালা
আপনি বর্ণময়। আমি পূর্ণগ্রাস।
অতএব, আপনিই আমার দংশন- গ্রহীতা।

৪.
আমি শুধু লবণ চেয়েছি আপনার কাছে
ঋণ স্বীকার? কৃতজ্ঞতা বোধ?
ভুলে যান মুহূর্তের উচ্চারিত মলম-কথা
তীব্রতম চাহিদা ছিল,
কাটা ঘা যেন আরও বেশি জ্বলে।


অপমান পোষ্য হয়েছে বলেই
আপনার যাবতীয় উল্লাস,
মস্করা গভীর রাতের।
মসৃণ করাতের গা তাহলে
আদরে আদরে আপনাকে
চিরে চিরে দিক?


নুব্জ্য হয়ে থাকেন বিপর্যয়ে
তিন রাত খিদে জমে থাকে
অথচ ছায়া গুটোতে গুটোতে
পর্যুদস্ত ছায়া…
গুটোতে গুটোতে
বুঝে যান, রজঃস্বলার শাড়ি
কত হাত দীর্ঘ হতে পারে


সহায়তার সঙ্গে কারুণ্য মিশে গেলে
‘ধন্যবাদ’ বলতে নেই
আপনাকে কর্তৃত্ব ছেড়ে দিয়ে
বিগলিত মোমের ভাষ্যে বললাম,
‘ভগবান আপনার মঙ্গল করুক’

আপনি শুনতে পেলেন তো?


সৌন্দর্য পরিহার করেছি
বিষ্ঠা স্বরূপ বেইজ্জতি মাখালাম
গদ্যের গায়ে
অথচ অপমানিত আপনাকে দেখলে
আমার গোধূলি মনে পড়ে
মনে হয়, দিনান্তে মা স্নান সেরে
ভিজে চুল শোকাচ্ছেন গদ্যের হাওয়ায়


নুনছাল ছিঁড়ে গেলে
তার নীচে স্বীকারোক্তির লাল…
ফেরত যোগ্য নুন
পরিমাণ মতো দিয়ে দিলে
বাকি ছাল সরীসৃপ জীবনে
ক্লান্ত খোলস হয়ে থাকে।

১০
বিষণ্ণ নৌবহর নিয়ে
আপনাকে আক্রমণ করতে আসছি
অথচ, আপনি ঢেউ হয়ে বারবার
আমার মধ্যে মিশে মিশে যাচ্ছেন
আর সশস্ত্র আমি কিছুতেই
তীরে পৌঁছতে পারছি না।

রুদ্রদীপ চন্দের কবিতা

আমাদের নতুন বই