রূপায়ণ ঘোষের কবিতা সিরিজ

উৎসর্গপত্রের দিকে চলে যাচ্ছে আরও একটি বই

নামপত্র
কোনও অমোঘ শিরোনাম রচিত হবে ভেবে
পৃথিবীর বিপরীতে এসে দাঁড়াই
সমস্ত অন্ধকার আশ্চর্য অবয়বশূন্য
অথচ স্তব্ধ গোধূলি থেকে উড়ে আসে
চিত্রময় প্রগাঢ় সন্ধ্যা—
এখানে প্রতিটি অক্ষর শরীরে
ভেসে থাকে মোহবর্ণ রাত…

মূল্যপত্র
মুদ্রিত পাতাটির পাশে
কারা যেন জ্যোৎস্না রেখে গেল
চন্দ্রালোক কখনও লক্ষ পর্যন্ত উজ্জ্বল নয়,
অস্থিরগামী মানুষেরা তাঁকে উদাসীন কৃতার্থতা দিয়েছে মাত্র
যেভাবে এ পৃথিবী সম্পদ ছাড়া কাউকে অক্ষয় করেনি কখনও!

সূচিপত্র
এক দীর্ঘ অসুখ থেকে উঠে দেখি
বদলে গিয়েছে বাংলা ভাষার দেরাজ।
শব্দ ও নিসর্গ সংগীত সরিয়ে
এসেছে ইশারা-সর্পিল কথকতা;
অজস্র গোপন মালিন্য ভেঙে ভেঙে
প্রস্তুত হয়েছে ছায়াবর্গ পথ—
এসো প্রার্থনা হোক; প্রবল স্পর্ধা আনুক প্রতিটি শতক
কেননা দীর্ঘ স্পর্ধায়
বাংলা ভাষার উঠোন বেড়ে যায়।

শ্বেতপত্র
প্রথম কবিতার বইটি লেখা শেষ হলে
দু’চোখে রাত্রির নির্ভরতা নামে
গভীর নিদ্রিত আমাদের চাহিদার ভিতর
উদযাপিত হয় কবিতা ও শূন্যতা; অমৃত ও তাড়ি!
বিভ্রমিত ঘুমের আড়ালে— একটি সাদা পাতা রয়ে গেলে
যাপিত জীবন এনে ভাঙে স্বপ্নখোলা সকাল
আসলে স্বপ্ন যতটা সরল ঠিক ততটা সে প্রতারক।

লিখনপত্র
শব্দের পর শব্দ এবং আরও অনন্ততা জুড়ে
অদ্ভুত এক সেতু বানিয়েছে মানুষ;
সেখানে দোদুল্যমান— আরূঢ় ভণিতা ও আমাদের অগ্নিগত শ্রম
সেখানেই স্থাপিত অন্ধকার, বিবর্তিত অসুখ।
দ্যাখো উল্লাসে অথবা বিবর্ণতায়
সমগ্র লিখনের পাশে, জীবনের কীর্তি ও ঋণ জমা আছে।

উৎসর্গপত্র
কারও জন্য কিছু লিখিনি এই বইয়ে
পৃথিবীতে আমারও ঢের আগে, চিরাক্ষয় মানুষেরা এসেছে
সে মিছিলের দিকে হেঁটে যাব বলে
আমার পায়ে জন্মায়নি পরম্পরাক্রম—
পার্থিব অক্ষরে,
শুধু একটা মৃত্যুর সুসমাচার লিখব বলে পৃথিবীতে এসেছি।
অথচ সমর্পণের দিকে চলে যাচ্ছে যাক আরো একটি বই

আমার উৎসর্গ, ক্রোধস্তব্ধ চেতনায় গড়া।

রূপায়ণ ঘোষের কবিতা সিরিজ

আমাদের নতুন বই