শাহানাজ মৌ-এর কবিতা

বলেশ্বর

শৈশব গল্পের মতো আজও আব্বার কোনো রাত নেই। নেই কোনো দিনও। এনজিও কর্মী আব্বা, পরিবারের কিচিরমিচির জানে না। তার পাতে মাছ থাকে না, ডালও থাকে না। আব্বা সাদা ভাতের সাথে সততা মেখে খায়। আমার আব্বা একটা সাইকেল। তেল লাগে না। হাওয়ায় চলে।

***
আব্বা এক বিশাল জনগোষ্ঠীর সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি-চরিত্র। তিনি একজন নায়ক। নায়কের ব্যাক্তিগত বলে কিছু থাকে না। সে কেবল পর্দায় দেখানো হাসি, উচ্ছ্বাস। আমার আব্বা রঙিন ফানুসের ভিতর জ্বলে যাওয়া লাল আগুন।

* **
আব্বা কোনোদিন চোখের জল বের করতে পারে না। সেবার ফুসফুসে জলের পরিমান এতই বেড়ে গেল সোজা বলেশ্বরে ভাসছিল। তার উপরে ছিল মেঘসমৃদ্ধ আকাশ আর নিচে তলহীন স্রোত। আব্বা ভেসে যাচ্ছিল….. আব্বা ভেসে যাচ্ছে।

***
কোনোকালে আব্বার কোনো ভালো জুতো ছিল না। প্লাস্টিকের জুতো পরতো বলে আম্মা আত্মসম্মানে ভুগত। আম্মা বুঝতেই পারত না প্লাস্টিকের জুতো না, আব্বাই প্লাস্টিক। আব্বার বুকে এত জল প্লাস্টিক না হয়ে মাটি হলে তো আব্বা গঙ্গা হয়ে যেত । আর তার স্রোতে ভেসে যেত আম্মা, ভাই, দাদান, দিদা, কাকাই, ফুপি… আতা, তোতা, সোনাডাঙার বাড়ি!

***
আব্বার চোখের দিকে তাকানোর সাহস আমি আজও পাইনি। তার চোখে পৃথিবীর সাত ভাগ জল প্রগাঢ় মেঘ হয়ে থমথম করছে। তাকালেই আব্বা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে। আমার জ্বর করবে। আব্বা আব্বা হয়ে থাকতে পারবে না আর… আব্বাকে বলেশ্বর বলে ডাকতে হবে!

শাহানাজ মৌ-এর কবিতা

আমাদের নতুন বই