শীর্ষার অণু-পরমাণুর কবিতাগুচ্ছ


মৃত্যুর আগে গাছ বুঝেছিল হলুদ পাতাদের
সন্তানশোক


শোকের কথা ভাবতে ভাবতে যিনি শোক-বিতৃষ্ণ হয়ে গেলেন,
লোকে তাকে বুদ্ধ নামে ডাকে


ডাক শুনেই যারা একে অপরের থেকে ছিটকে যায়
তারা আজ চল্লিশ বছর ঘর করে ফেলেছে


ঘর নিয়ে একশটি কবিতা লিখেছে যে মেয়েটা, খোঁজ নাও
ঘর থাকাটুকুই তার নিজস্ব ব্যাধি


ব্যাধি এবং ব্যাধ পরস্পরকে ভালোবাসে।
যেভাবে ব্যাবসা জমে ওঠে রোগ এবং ডাক্তার উভয়ের


উভয় আসলে একটিই শব্দ।
একের পিছনে আরেককে লুকিয়ে রাখার গল্প


গল্প বলতে বলতে মা পাখিটি একদিন শিশু হয়ে যায়।
শিশুটি মা।


মায়ের কথা ভাবলেই গাছের ছোঁয়া লাগে।
সহস্র বেলফুল! আমৃত্যু গন্ধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়েই চলেছে


ঘুম একটি আশ্চর্য ট্যাবলেট যাকে খাওয়া যায় না—
যে আমাদের অনায়াসে খেতে পারে

১০
খিদের জন্য গান গেয়ে বেড়ায় যে লালন
জ্যোৎস্না তার একমাত্র রুটি

১১
জ্যোৎস্না একটি বেদের মেয়ে লোকমুখ যাকে
শুধুমাত্র নির্বেদ এনে দিয়েছে

১২
নির্বেদ একটি গান মানুষ আজন্ম যাকে সঙ্গে রাখার
কথা দিয়ে এসেছে

১৩
কথার নিজস্ব কোন স্বরযন্ত্র নেই সুতরাং
নীরবতাই কথার একমাত্র পরিচয়

১৪
পরিচয়হীন দুটি পাখি একমনে খড়কুটো দিয়ে
দম্পতি নামের বাসা বানায়

১৫
বাসা একটি উদভ্রান্ত বেড়ালের কান্না,
যাকে চোখে দেখা যায় না

১৬
চোখ— মূর্তির মতো সুন্দর, পটলের মতো!
কখনও মানুষের হতে পারেনি

১৭
মানুষ সেই চিরঘুমন্ত কালিদাস
কুঠারের থেকে যে নিজের সর্বনাশ কিনে এনেছে

১৮
কুঠার— গাছের প্রতি অপরাধবোধে ভুগতে ভুগতে
নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল অবশেষে

১৯
নিশ্চিহ্ন মানুষ, নিশ্চিহ্ন শ্মশান
মৃত্যুর কুণ্ডলী একা একা বেহালা বাজায় সারাদিন

২০
বেহালাটি আজন্ম কেঁদে চলে
শুধুমাত্র গাছের মৃত্যু উদযাপন করবে বলে

২১
বিদ্যুতের আলোয় গাছ একবারই তার
নগ্নতা দেখতে পেয়েছিল

২২
অফুরান আনন্দে নিজেকে চিরে ফেলার নাম
বিদ্যুৎ

২৩
ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাকে
অফুরান বলে আদর করতে হয়

২৪
ফকির বাড়ি ফিরে এলেই
ফুরিয়ে যায়

২৫
উন্নতির গন্ধ মানুষের
চূড়ান্ত ফকিরিবৃত্তি

২৬
উন্নয়নে জীবাত্মা এক থলে
অন্ধত্ব পায়

২৭
অন্ধত্ব মানুষকে পথ না থাকার
চক্ষুদান করেছে

২৮
ঈশ্বরের চক্ষুদান করে চলে
চক্ষুহীন মানব

২৯
গাছ জানে মাটি শুধুমাত্র একটি
অসহায় ঈশ্বরের পেটের নাম

৩০
নাম সংকীর্তনে মত্ত মানুষটি শেখায়
রঙিন মাছের লোভ কতখানি দক্ষ ডুবুরি বানাতে পারে

শীর্ষার অণু-পরমাণুর কবিতাগুচ্ছ

আমাদের নতুন বই