লেখক নয় , লেখাই মূলধন

শীর্ষা মণ্ডলের কবিতা

ডিমের কুসুমের মতো নেই হয়ে যাচ্ছে সূর্য—
গোগ্রাসের কাছে, পুষ্টির প্রাবল্যে যারা
জেনারেটর চালাতে ভালোবাসে,
আলোর প্রভু তাদের কদর নিল না
কোনোদিন

*
কুঠারের ছল বিক্রি করে কাগজ কিনল যে লোকটা,
তার অনিদ্রা রোগের দিকে চেয়ে দ্যাখো—
গাছের অভিশাপ উন্মাদ নাগিনী সেজে
ঘুম দেয়

*
ফুল দিতে গেলে ফিরিয়ে দিয়েছে যে মেয়েটি শতবার
অজস্র গুল দিয়ে—
ভেবে দ্যাখো, প্রতিদানে সে তোমাকে আস্ত বাগান
ঢেলে দিয়েছে। ভ্রূণহত্যার মতো চোখের নীরব

*
দুটি গাছ নিজেদের মধ্যে কথা বলে। অনর্গল।
জল হওয়ার কথা, বাতাস হওয়ার কথা।
মাটি হওয়ারও। কখনো পরস্পর হয়ে ওঠার
কথা বলে না

*
নিস্তব্ধ বাতাসে চলমান যে ধুলোর শরীর,
মানুষ তাকেই ব্যবসা কিংবা
বেঁচে থাকা বলে

*
হাঁসের তেলকে আমি গায়ে মেখে নিলাম।
জলের সঙ্গে শত্রুতা পাতাব বলে!
এটা জানতে পেরে হাঁস তার সবটুকু অসম্ভব সাদা
অকপটে আমাকে ফাউদান করে গেল

*
পরাগমিলনের আগে মৌমাছিটি এক পাগলের গায়ে
বসেছিল। মৌমাছিটি জানত— পাগল ছাড়া
আর কেউ তাকে চাঁদের গন্ধ এনে দিতে
পারবে না

*
সোনালি মাছের চোখ—
নিরাভরণ কুতকুতে চোখ,
মটরদানার মতো শক্তিহীন একটি চোখ,
তুচ্ছ স্বচ্ছতা দিয়ে
অর্জুনের নতজানু কিনে নিল

*
নদীতে গা ধুতে যাওয়া নারী,
নারীকে ছুঁয়ে থাকা নদী—
অপেক্ষার কর গুনতে থাকে উভয়েই,
একাকীত্ব বিনিময়প্রথার!
*
একটি পাখির কৌতূহল কিনে নিচ্ছে আকাশের নীল—
পাখিটি জানতেও পারছে না, পালকের রতিক্রিয়া
তাকে বেঁধে রাখছে অশরীরী সুতো দিয়ে
ঠিকানাহীনতার পায়ে

শীর্ষা মণ্ডলের কবিতা

আমাদের নতুন বই