সুবোধ দে’র গুচ্ছকবিতা

ব্যর্থ সঙ্গম
প্রতিটি ব্যর্থ সঙ্গম শেষে তুমি ছিটিয়ে দাও থুতু। বিষলালা ছোপ ছোপ দাগ রেখে যায়, সকাল অবধি। নিস্ফল লিঙ্গ উত্থান ঘ্রাণ লেগে থাকে রোমে। তলপেটে ব্যথা কুনকুন। দানা দানা টুকরোয় গড়ে অন্য মুখ। ভ্রমছবি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। উলটো চোখ দূরবীনে। কাছের মুখ বহুদূর। নিমতিতা দিনভর জিভের ডগায়। স্বপ্ন জন্মের মৃত্যু। লিখে রাখে বীর্যহীন মরুবিছানা।

পাখির চোখে
ধূপছাও শস্যমন পাখিচোখ তুলছে ছবি
আহ্লাদী ইঁদুর ঘর বাঁধে আলপথে,
বর্শামুখ থেকে গড়িয়ে পড়ে
খয়ের দেওয়া পিক,
নাড়া মন মনে মনে
কেটে রাখে নিজের শরীর—

আকাশমণি পাতায়
ঢেকেছে যোনিমুখ—।

বারণ
হাতের কাছে সব। বারণ নিয়ে ঘুরে বেরায়। চোখ চেয়ে আর ছোঁয়ার মাঝে এক আলোকবর্ষ ফারাক। তারায় তারায় রটে যাওয়া নিয়ে আপাত স্থির বাতাস। সদ্য পোঁতা ধানচারার গায়ে। কেঁপে উঠলে বুঝি ছুঁয়েছি তোমায়।
এখানে ধোঁয়ার দেশ। ধোঁয়া দেখে যায় না বোঝা অন্তর।

বিজ্ঞাপন ফ্লেক্স
একপাশে আগুনকে রেখে। যে মর্মবেদনার কথা বলো। বোঝো না, বিশ্বাস অন্যকে বোঝানোর নয়। রোমের অনুভবে টের পাওয়া এক অনুভব। খুলে হাট হয় সব। তবু, অমায়িক পথ বাঁক নেয়। তুমি বোঝো, যায় না বোঝা!

হাটখোলা চাতাল, তুলসীমঞ্চ সাক্ষী রেখে। ধূপ জ্বালিয়ে সালিশি হয়। ফুটো ফুটো বিজ্ঞাপন ফ্লেক্স হাওয়ায় দোলে।

খামতি
মগজের একপাশে খামতিরা ঝিমোয়।
ধীরে ধীরে সব পরিস্কার হয়ে যায়।
দীক্ষিত স্বর পুনজন্মের আশায় বসে
আশ্চর্য মুখের দিনরাত—
তোমার পছন্দের কথারা হা-মুখ করে ঘুমোয়
কশ বেয়ে নেমে আসে গন্ডির জল,

বাক্‌পটু বাতাস সার্সি ভাঙা দেখে
খুঁজে নেয় শীঘ্র প্রস্থান পথ।

সুবোধ দে’র গুচ্ছকবিতা

আমাদের নতুন বই