লেখক নয় , লেখাই মূলধন

সুব্রত চক্রবর্তীর কবিতা

উইপোকা

বাইরে প্রবল বৃষ্টি। ধুয়ো-ধুলো মেখে
দেবজ্যোতি হয়ে আছে বুড়ো ল্যাম্পপোষ্ট
তবুও আঁধার। নীলকণ্ঠ

ঔষধি গাছেরা ভিজছে আর তরল ভ্রূকুটি নিয়ে
মৃত্যুকাম হয়ে আছে শান্ত নৈশকাল। ব্যঞ্জনার

দু’টো-চারটে উইপোকা বৃষ্টিগানে পাখনা মেলেছে
দু’টো-চারটে উইপোকা ঝরা বকুলের মতো, নিস্তরঙ্গ
পথের উপর পড়ে আছে

বাইরে তখনও বৃষ্টি, অন্ধকার মেঘ নিয়ে আসে।

কুটুম-কাটুম

সেও এক গাছ, মৃত ডালপালা, কিংবা শিকড়-বাকড়
অনায়াস কারও খেয়ালের মতো পড়ে আছে
তোমাদের মনোযোগ পেলে প্রাণ পায়, মনে মনে
বেড়ে ওঠা বোধগুলি শরীরে প্রকাশ পায়, কথা কয়, স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তোমাকে বোঝালে তুমি বোঝো, তা না হলে
শুধুমাত্র পাতার আড়াল, সহজেই পাশ ফিরে থাকো।

সিনান

অন্ধের বাগানে আর কাঁটা নেই, ফল-পত্র নেই
শুধু এক মহাফুল ফুটে আছে কৌতূহল নিয়ে

এ’সব কুয়াশা ছেড়ে এসো, আজ
মনে মনে শালিক-সিনানে যাই
দুর্ভিক্ষের হাড়-চর্মসার মন্দাকিনী জলে

চাঁদ

সে একবার অন্ধকারে ঢিল ছুড়ে কলশ ভেঙেছে—

নিজেরই অজান্তে
বহু ছায়াপথ, আলোর কণিকা আর মাধবী- বিতান ছেড়ে
চলে গেছে দূর কোনও নিখোঁজ-নিশ্চিন্তে

তারে খুঁজি, পাগলের মতো খুঁজি
ভাঙা, ডিমের খোলার মতো মেঘময় প্রান্তরের আনাচে-কানাচে

কোথাও বাড়ছে সে, বেড়ে উঠছে ঠিক
একদিন চাঁদ হবে বলে এই শ্মশানের আকাশে

প্রজাপতি

মাথার চারপাশে কতগুলো প্রজাপতি ওড়াউড়ি করে অভ্যাসের মতো। ভেতরে ঘুণের গান, ক্ষরণের অবিরাম নদী— এই নিয়ে বেড়াতে এসেছি এই মাধবী-বেলায়। পাশ ফিরে থাকে মুখ, অসংখ্য সতর্ক চোখ আলো জেলে রাখে, বন্ধু হয়ে যায়, ভেতরের কলকব্জা ভুলেও দেখে না। তাহলেও এইবেলা বন্ধু-বৎসল। চলো আজ, পথের এই মেঠো আলো ডানা মেলে দিক। চলো, পাশাপাশি চলি।

সুব্রত চক্রবর্তীর কবিতা

আমাদের নতুন বই