হিন্দোল ভট্টাচার্যের কবিতা

আসক্তি

চিত্র: ইভস্ ট্যাঙ্গি

নিজস্ব প্রলাপ লিখি, ঘর ভাঙে, কৃত্রিম খেলার ফাঁকে কেউ
কানে কানে বলে যায়, এবার চমকপ্রদ কিছু লেখো
শ্রাবণ তো খালি গায়ে বৃষ্টির ভিতর ছুটে যাওয়া
ভিজে যাওয়া মাটি পায়ে পিছলে যাওয়া মুঠো করে ঘাস
পাশে কাঁটাঝোপ হাসছে, মজা তারা কম পায়নি এতে
ঘনঘন বাজ পড়লে আকাশ যেমন দ্বিখণ্ডিত হয়
আমিও তেমন ভেঙে যাই, কিছুটা তোমার মধ্যে, কিছুটা আমার
এমন বৃষ্টির দিনে সবকিছু ভিজে যায়, মৃত্যুও, আপাদমস্তক
আগুন আড়াল করে এইসব লজ্জাগুলি, তার দ্বিধা নেই কোনো—
এ’সব লেখার কিছু নেই, হে কিশোরী, তুমি জলছবি আমার
প্রজাপতি দেখে তুমি অসবর্ণবিয়ে ভাবতে পারো
এমন বৃষ্টির দিনে, এবার চমকপ্রদ
বেহালা বাজুক, মন, বাতিল সফর হয়ে পড়ে আছে কুমীরডাঙায়…

ময়দান

খেলার প্রতিভা জানি, খেলা শেষ হলে ভেঙে যায়;
এই নিয়ে দুঃখ করে লাভ নেই, সকলই নশ্বর
তোমার আমার মতো পায়চারি করতে করতে কে বা কার
হিসেব রেখেছে! তারচেয়ে ঘাম ঝরাও, শরীর কাঁদুক
যেকোনো খেলার কোনো শুরু আর শেষ নেই বলে
বুকের উপরে উঠে আসে সাপ, ফণা তুলে ধরে
তোমার দু’চোখ জানে কীভাবে সাপের চোখে চোখ রেখে তাকে
খেলে যেতে হয়; তার মাঠে নামা মানে
খেলাই তোমার বন্ধু, প্রতিদ্বন্দ্বী, অথবা দর্শক।

হিন্দোল ভট্টাচার্যের কবিতা

আমাদের নতুন বই