লেখক নয় , লেখাই মূলধন

কবিতা

নিমাই জানা

শিথিল বরফের চাঁদ

রাতের নক্ষত্রেরা মেঘলা পথে হাঁটলেই সকলে অন্ধ মুনির আলখাল্লায় আমলকি বন দেখতে পায়
যৌগিক পুরুষ হয়েও আমি কোনো পার্বত্য নারীর কথা বলিনি, যারা ডুয়ার্সের অতলান্ত গভীর খাত থেকে তুলে আনে চা পাতার ভেজা শহর
আমি তাদের নরম বিভাজিকার গ্রাম্য রাস্তা থেকে তুলে আনি নদীপথের পিচ্ছিল গিরিখাত
দু-দণ্ড প্রশান্ত সাগরের চুমুকে গজিয়ে ওঠা শিরা রক্তের সংবহন খুঁজে বেড়াই শিথিল বরফে

দ্রাক্ষাফল ও সেলেনিয়াম ওষুধ

কে ঐ আত্মহত্যার সেলেনিয়াম ওষুধ খায় ক্রমশ ভাঙা খুদকণা, ভাতের পঞ্চব্যঞ্জন দিয়ে
দীর্ঘতর হয় এই লোমকূপের ছায়া
আমি এক প্রকাণ্ড বাবার ছায়ার নীচে বসে জমাট পাথরকুচি পাতায় আমার যৌনঘর ভেঙে সিমেন এনালাইসিস করছি
সপ্তর্ষিমণ্ডল থেকে মৃত নক্ষত্রদের হাতে করে নিয়ে আসি এই দ্রাক্ষাফুলের ভেতর
তাদেরকে জবজবে সাদা আতপ চালের হায়ারোগ্লিফিক শিখিয়ে চলি মধ্য প্রহরের পর কোনো শান্ত নারী ধ্রুপদী সংগীতে ডুবে যায় পশ্চিম দিকে মুখ রেখে

ধাতব ও পুরুষ অথবা কর্কট ছায়া

কালো মানুষের গর্ভ আর জরায়ু উলটো হচ্ছে কালো পাথরের মতো
আমি এক পরিচ্ছন্ন ছেঁড়া গামছা থেকে ভাঁজ করা লিবিডো অসুখ বের করি
রাতের পরিরা ঘুমোতে গেলে আমি ক্রমশ ধাতব ও বিষধর কর্কট পোকা বিছানায় উপুড় করে রাখি
নরম শেকড় থেকে সব পার্বত্য কথার বিয়োগচিহ্ন ভেঙে পাললিক পাথর সাজাই ভূগোল মায়ের দেহে
আমার কৌতূহল ভেঙে দিচ্ছেন মহাজন, দুটো আঙুলের ফাঁকে এত রাজকীয় তরল পোশাক গায়ে শাড়িটি ক্রমশ অনুর্বর হয় সুদর্শন পুরুষটির জন্য

মানচিত্র অথবা বৃত্তের কথা

ঈশ্বরী উলঙ্গ হয় আমার বৃত্তের পরিধির উপর
আমিও কালো রঙের মানচিত্র এঁকে দিই আমার ঠোঁটের উপর
জনৈক মৃৎশিল্পী পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের কবিতা রাখে আমার ছেঁড়া হাফহাতা পলিয়েস্টার জামার ভেতর, ঘামের গন্ধে দ্বিতীয় ছায়াটি নড়ে ওঠে জলের মতো
আমি সনাতন ঋষির জন্য দুটো সর্পগন্ধা, একটি নীল অপরাজিতা ও সহস্র বন্ধ্যা জলাভূমি রেখে এসেছি দেহ ত্বকের নীচে নরম শালুক ঢেকে
গর্ভাধান পুষ্ট হচ্ছে ক্রমশ

রাইবোজোম অথবা দুইজন মেডিকেটেড নার্স

আমি স্নায়ুর অস্ত্রোপচারের পর দু-টি পুরুষ নার্স তিনটি এক কোয়া রসুনের গল্প বলতেই অস্ত্রোপচার রুমের বাইরে আমার তিন শতক আগের উদ্ভিদ প্রেমিকার দেখা পেলাম
মেডিকেটেড নারীর সাথে দেবালয় ঘুরে এলাম আমার গায়ে নীল চাদর আর দুটো পুরুষ ফুলের গন্ধ অথচ আমি বেড়ে উঠছি না রাইবোজোম পুরুষের গায়ে, শীতল নদীর কখনো সংগমের পর্যায়ক্রম হয় না
এখনও শিথিল হয়ে আছি সংগমের পর, কোনো রাত্রিকালীন মহাযুদ্ধ অথবা প্রলয়ের পর কোলাহল মুখর নাইট্রোজেন স্নান করে ফিরলাম বৃষ্টির পর
সকলেই তরল বিষধর দাঁতে চম্পক নারীদের সাথে প্যাগোডা ভ্রমণ করছেন

কাঞ্চনজঙ্ঘা ও সূর্যোদয়ের দ্বিঘাত

ফাঁকা ঘরে একাকী কেউ ফাঁসির কাঠ আর কীটনাশকের সরল সমাধান করছে দ্বিঘাত দিয়ে
বিছানার গোখরো ফেলে যাচ্ছে উচ্ছিষ্ট খোলস কাঞ্চনজঙ্ঘা আজ বড়ো চকচকে আজ সূর্যোদয়ের আগে
আমি রাতের গ্রাম্য নারীদের মতো ভেজা কাপড় হয়ে ঝুলে আছি তরল অসদ বিম্ব আমার কোনো পার্শ্বীয় পরিবর্তন নেই
দেহটি নিরাকার, চোখটি বাইফোকাল, নাভিটি থার্ড ডিগ্রির

নিমাই জানা

জন্ম- ২৪ শে জুন ১৯৮৪। বাসস্থান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার, সবং থানার রুইনান গ্ৰাম। পেশা- শিক্ষকতা। কবিতার অক্ষরকে নিয়ে বানপ্রস্থ চলে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রয়েছে মনে। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- ছায়ার মূলরোম (২০১৮), নির্জন পুরুষ অসুখ(২০১৯)।

পছন্দের বই