লেখক নয় , লেখাই মূলধন

বইমেলার ডায়েরি: সেলিম মণ্ডল

০৭/০২/১৯

আর মাত্র চারদিন? নাহ্, এভাবে ভাবছিই না। মেলা সাতদিন হল, মেলা চলছে, এভাবেই চলবে। আমরা রোজ দুপুরে ঢুকে সারাদিন হইহই করব। টেবিলে বসব। ধার-দেনাহীন এই দোকানদারের জীবনে ভালোবাসা ছাড়া আর কিছুই চাওয়ার বা পাওয়ার নেই।

‘ভালোবাসা দিতে পারি/ তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম?’ আজ কি বলা সাজে? সবই ভালোবাসার মানুষ। সবাই দূর-দূরান্ত থেকে এসেছে এই ভালোবাসার টানেই। আসলে দ্বন্দ্ব-দ্বিধা আমাদের মনে এমনভাবে আচ্ছন্ন হয়ে থাকে তা মুছে দিতে চাইলেও পারি না। জোর করে মুছতে গেলে ক্ষত-বিক্ষত হতে হয়।

ষষ্ঠদিনের মতোই সকলে ছিল। শুধু অরূপদা নেই। অনুষ্ঠান বাড়িতে। শুরুর দিকটা আমি আর তন্ময় গুছিয়েছি। অভিষেকদা একথা শুনলে হাসবে। ও ভাবে আমি একদমই টেবিলে বসি না। গত দু-দিন পাঠকের ভিড় কম। ঘুরতে আসা বা ফিসফ্রাই খাওয়ার লোক বেশি।

দেবোত্তম, শতানীক চলে এসেছে। আমি আর টেবিলে নেই। এদিক ওদিক ঘুরছি। চারটে নাগাদ টেবিলে এসে দেখি অরূপদা। অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে এখানে কীভাবে? সকালেই ফোন করে খোঁজ নিল। ‘অনুষ্ঠান বাড়িতে সেই তো বসেই থাকতে হবে, ২-৩ ঘণ্টা যা তোমাদের সঙ্গে কাটানো যায়’ বলে হাসে। আমি বললাম, তোমার, টেবিল বসার নেশায় পেয়ে গেছে।

সত্যি বলতে এটুকুই… আমাদের লিটল ম্যাগাজিন, এটুকুই আমাদের পৃথিবী… এখানে যারা আসে, নিজের ভিতরকার উত্তাপটুকু জ্বালিয়েই, যারা জ্বলে যায় বা জলে যায় তারা আসলে ভেসে থাকার কৌশল শিখে ডুব দিতে চায়, ডুব কি ওভাবে হয়? ডুব দেওয়া এক প্রকার অভ্যাসের সাধনা। এই সাধনায় সাদা হাঁস নিজের মতো চরে।

বইমেলার ডায়েরি: সেলিম মণ্ডল

আমাদের নতুন বই