Categories
কবিতা

আবির্ভাব ভট্টাচার্যের কবিতা

ইতিহাসে কাঁচা ছাত্রদের জন্য


মানুষ সেই জীব, যারা দু’টো বিশ্বযুদ্ধ লড়েছে।
যারা আগুনকে পোষ মানিয়েছে
আবার লেলিয়ে দিয়ে বলেছে—
যা! খেয়ে ফেল!


গাছ চিরকাল স্তব্ধ ও ক্ষমাশীল।
ছুরি বা বুলেটে তাকে আজও নোয়ানো যায় না
লৌহযুগের কুঠার এখনো তার মারণাস্ত্র!
সেই শান্ত, নিরীহ, ছায়াসংকুল গাছের বসতিতে—
মানুষ লেলিয়ে দিয়েছে আগুন!


আগুনের ধর্ম ছিল সহজ করে দেওয়া!
গাছেদের বসতি পুড়িয়ে দিলে
মানুষের পক্ষে অনেক সহজ হয়
গাছেদের ভিটেমাটি দখল নেওয়ার কাজ!


এই সহজ করে দেওয়ার কাজটা
আগুন করে এসেছে সেই প্রস্তরযুগ থেকেই!
তখন সে মৃত পশুর কঠিন পেশীকে নরম ক’রে
স্বাদ দিয়ে বদলে দিয়েছে মানুষের খাদ্যাভ্যাস!
এখন সে একসঙ্গে পশু, গাছ ও মানুষকে জ্বালাতে
ভীষণরকম অভ্যস্ত হয়ে গেছে!


সমস্ত ইতিহাস আসলে আগুনকে পোষ মানানোর ইতিহাস!
মাংসের দিকে, গাছের দিকে তাকে লেলিয়ে দেওয়ার ইতিহাস!
আর এইভাবে চলতে চলতে মানুষ আর আগুন
ইতিহাসের উদ্দেশ্য আর বিধেয় পদের মধ্যে
স্থান বদল করে চলেছে প্রতিনিয়ত!…

আরও পড়ুন : আবির্ভাব ভট্টাচার্য

8 replies on “আবির্ভাব ভট্টাচার্যের কবিতা”

চমৎকার! সমৃদ্ধ হলাম ইতিহাসের নতুন আঙ্গিকে….

সকলকে ধন্যবাদ ও নমস্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *