তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়ের কবিতা

খিদে

হরিণ লাফাক, তুমি সাপের গর্ভের কথা বলো। আমাদের মাঠে বসে গুণিন ছিলিম টানে ভোরে। ফের কিছু লোক এসে কোকুনের ছাল রেখে যাবে। নদীতে যে মড়া এসে কাল রাতে ঠেকেছে শ্মশানে, তার কোনো নাভি নেই, শুধু কিছু কুচো মাছ খুঁটে খুঁটে শ্যাওলা খেয়ে যায়। গুণিন জমিয়ে বসে, সাপের রভস ব্যাখ্যা করে। কীভাবে নক্ষত্র থাকে শঙ্খ হলে কৃষ্ণা প্রতিপদে… কীভাবে সাপের শুক্র উচাটনে স্থির হয়ে যায়… ফের ঘুম, ফের কিছু উপোসের বাটি নড়ে ওঠে। হরিণ শিথিল হয়ে মুচড়ে গেছে ছোটার আগেই।

একা বুড়ো গুণিনের ঘরের উনুনে ছাই ছুঁড়ে
মড়ার কণ্ঠার হাড় মাছ ভেবে ছিঁড়েছে সারস।

চাষ

মধ্যযামে রমণ। প্রতিবার ক্লান্ত স্ত্রী আরও যেন কুহক, আগামী।
প্রবেশ সংযম ধরে বীভৎস ঝাঁকিয়ে দিল,
যেন নিচে বিছানা নেই, মাধ্যাকর্ষণ নেই।

গতি তো ধ্রুবক নয়; ধীরে ধীরে নিভে যায় আয়ু।

যত চেনা ঘামগন্ধ, সিঁদুরগন্ধ, গৃহগন্ধ—
হাড় তত আগন্তুক শামুক।

সারাদিন বীজ পেটে ভাত রাঁধছে দানে পাওয়া গাছ।

অন্দরে মানতের জ্যান্ত, গাঢ় সুতো

ন’মাস

সুজাতা হয়ে ভাসে।

Spread the love

7 Comments

  • খুব সুন্দর কবিতা টি। যা মধ্যে চাস কবিতা টি আমার ভালো লেগেছে।

    আহেদা খাতুন,
  • অসাধারণ লিখেছেন… তবুও প্রয়াস জারি রাখবেন, আরও ভালো করার…

    ঐশী মুখার্জী,
  • তোমরা কয়েকজন তরুণ কবি কবিতার প্রচলিত ভাষার আধার বদলে দিচ্ছ। এই বদলের প্রচেষ্টায় বাংলা কবিতা আরও সমৃদ্ধ হোক। আরও আলোর পথ দেখুক। বস্তাপচা সাহিত্যের ঘোর কাটুক পাঠকের মনে।

    বিশ্বজিৎ দাস,
  • অনেক ধন্যবাদ

    তমোঘ্ন মুখোপাধ্যায়ের,
  • কবিতাগুলি অসাধারণ। খুব ভালো লাগলো।

    শতদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়,
  • ‘চাষ’ কবিতাটা ভালো লাগলো । বিশেষ করে যেভাবে শেষ হল কবিতাটা , সেটা খুবই ভাবালো ।

    kuntal mukherjee,
  • “চাষ” কবিতাটি খুব ভাল লাগল।

    অরূপরতন হালদার,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *