Categories
কবিতা

প্রবীর মজুমদারের গুচ্ছকবিতা

বাঁশি
এই বর্ষার দিনে ভেসে যেতে যেতে তোমার কথাই শুধু মনে পড়ে যায়। এই তো মাথার উপর ভরসার হাত। তাতে বাংলার ঘ্রাণ লেগে থাকে। কত কত অজানা গল্প, উপকথা। মাঠ পেরোলেই সেই মায়াময় গ্রাম। তার বাঁকে বাঁকে যত কুটির, খামারবাড়ি— এই বর্ষায় আরও কাছাকাছি আসে। ছেলেবেলার মতো বুকে চেপে ধরে কেউ ফুঁপিয়ে ওঠে ‘ও আমার শ্যামসুন্দর ‘। আর ভিতরে অবিরাম বাঁশি বাজে।

সন্ত
অনন্তের পথিক আমি। পথে যেতে যেতে শিখে নিই কীভাবে কোনো কথা না বলে শিসধ্বনি দিয়ে পাখিদের সঙ্গে হয় কুশল বিনিময়। গ্রামে গ্রামে প্রতিটি গোলাঘর যেন তাদের উপাসনা গৃহ। মন্ত্রমুগ্ধ হলে অসুখী বিড়ালের চোখের ভিতরেও জ্বলে ওঠে আলো।

এই শেষ বর্ষায় নদী ফুঁসে উঠলে কত আদরে তাকে দূরের কৃষিক্ষেতের দিকে নিয়ে যেতে হয় স্বপ্নে এক সন্ত দিয়ে যান সেই নকশা। যদি ভুল বোঝ, তাই তাঁর কথা তোমাদের নগরে এসে কারো কাছে কখনো বলিনি।

গতজন্মের গান
এই অমানিশায় এ-নগরের অলিতে গলিতে অচেনা ধুন বেজে গেলে প্রাসাদোপম বাড়ির ভিতর এসে পড়ে এক মাটির দেওয়াল। তার খোপে খোপে নীল পদ্ম কুপির মতো জ্বলে। সে আলোয় সম্পূর্ণ কামনাহীন হয়ে কাচপোকার মতো এখানে ওখানে উড়ি, আলপনা দিই। আকস্মিক কোথাও যেন মৃদঙ্গ কেঁদে ওঠে। আর সেই তরঙ্গে আকুল হয়ে ছড়িয়ে পড়ি যেন গতজন্মের লুকানো কোন গান।

চোখ
বুকের ভিতরে এক নীল নদী থাকে। তার গভীরতা মাপতে মাপতে ক্রমে অতলে ডুবে যাই। সেখানে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে বসে থাকেন এক দেবী। কাছে যেতেই দেখি এ আমার অন্নপূর্ণা, এই তো সেই চোখ।

5 replies on “প্রবীর মজুমদারের গুচ্ছকবিতা”

বাহ্। প্রতিটি কবিতারই চলন অনায়াস। খুব ভালো লাগল।

বেশ ভালো। আগের লেখা থেকে বেশ কিছুটা বদল এসে। তবুও প্রয়াস’কে অনেক শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *