বিশ্বজিৎ দাসের কবিতা

ক্রাইম কবিতা

বৃন্দাবনে ধরা পড়েছে সে
নাম প্রেমমহারাজ

যদিও আসল নাম নয় ওটা; প্রকৃত
শুভাগত রায়; এটাও বদল হতে পারে

আপাততঃ যতটুকু জেনেছি তাই…

শ্বেত পাথরের প্রেম মন্দিরে জমিয়ে
আখড়া চালাচ্ছিল,
রাধামাধবের ধাম বলে কথা!

পনেরো থেকে বিশ হাজার
বিধবার মধ্যে বেছে বেছে পিপাসার্ত লীলা
পারঙ্গম মহিলাই তার ভক্ত ও সাধনাফুল!


এভাবে চলছিল বেশ! হঠাৎই
ভাবের ঘোরে কে একজন হ্যান্ডসআপ

সমগ্র ভক্তের সামনে, চোখের কোণে
তখন নেমে এসেছে বারো বছর আগের…

হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, এই একযুগ তার
থাকার কথা ছিল; জেল কিংবা ফাঁসির পর
নিসর্গলোকে। অথচ কি এক সৌভাগ্য তাকে

নিয়ে এল আগ্রা দিল্লী হাইওয়ের পাশে
এখানে ছিলেন মীরাবাঈ চোদ্দো বছর

ভেবেও ছিল, আর দু-বছর হলেই দেবতা
হয়ে উঠতে অসুবিধা হবে না! তাহলে কি

মীরাবাঈ এরকম কিছু? জানি না।
ইতিহাসের ছাত্র নই; ওসব গবেষকের কাজ

আমি শুধু দেখেছি, মেবার রাজ্য ছেড়ে
সকল নূপুরের দিনগুলি আছড়ে পড়েছে

শ্রী মাধবের পায়। তবে তিনি দেবী কিনা
এ প্রশ্ন করা হলে, আমি শুভাগতর কথা

শুনব, যতক্ষণ না সে বৃন্দাবন ছাড়ে…


দৌড়ে পালাবার সময়, যমুনা নদীর তীরে
কেশী ঘাটে বাঁ পায়ে গুলি খেয়ে
মুখ থুবড়ে দেখে সূর্যডোবা জল

তারপর সোজা বাংলায়। যদিও পথে পুলিশ
ভ্যানে আর সেরকম বীরত্ব দেখায়নি। কেন?

যেন একেবারে নির্লোম বেড়াল। একেবারে
শক্ত হলুদের যৌবন, মুখে আলস্যের দাঁড়ি

কপালে বিষ্ণুর দ্বাদশ নামের তিলক। এখন
অস্পষ্ট, দৃঢ়দস্যুর চন্দনে সুগন্ধি আর নেই!

এ বাণচিহ্ন নিয়ে নিষ্ঠাবান হিন্দুর পরিচয়ে
অনার্য সংস্কৃতি মিশে গেল ইংরেজি ভি
কিংবা ইউ অক্ষরে…


বারো বছর আগের সেই রাত ফেলে
কোথায় চলে গেল শুভাগত আর

পরেরদিন সাহা পাড়ায় এল পুলিশ
অনুমান গতরাতে খুন হয়েছে সে

মহিলার মাথা থেঁতলে, নিম্নাঙ্গে ফেঁড়ে ফেলে
নৃশংস এক আয়না দেখে পালিয়েছে

খুনের সময় একজন ছিল? নাকি
প্রফেশনাল কেউ? উল্লাসের শব্দ

অবশ্য ছিল না ঘরে। মেঝের রক্ত গড়িয়ে
বারান্দায়। প্রতিবেশীরা তখন ঘুমে

হঠাৎ চেনা রক্তের শুকনো গন্ধ আর সন্দেহ
টেনে আনে তাদের। এসবে রিস্ক তাই

সরাসরি পুলিশে ফোন। পাড়াশুদ্ধ উধাও!


তালা ভেঙে ঢোকে তদন্তকারী অফিসার
কালো রক্তের সূত্র ধরে এ-ঘরে

থ্যাঁতলানো মাথা কি ভয়ঙ্কর মুখশ্রী নিয়ে
হাজির ওদের সামনে। লম্বা চুলের ভেতরে

চাপচাপ রক্ত আর বেঁচে থাকার প্রবল চেষ্টা
প্রায় উলঙ্গ শরীরে, বুকের কাছেও ছুরির দাগ

তবে নখের মধ্যে কিছু প্রয়োজনীয় চুল
মৃত্যু কী বিভৎস হলে এমন টার্গেট

এমন করে মারা, যাতে মুখ চিনতে না পারা
তবুও ঘরে ফেলে রেখে ভুল করেছে শু

আর যৌনাঙ্গ ফেঁড়ে ফেলা যে কী
নরখাদকের কাজ, মেন্টালি ডিসব্যালেন্সড

হয়ে নাকি পরিকল্পিত কোনো ঈশারায়?


ভালোই তো ছিল, শু ধরে ডাকত সে
আদরে আবদারে কখন যে চিড়

ধরতে পারেনি কেউ। বড়ো বেশি
কাছাকাছি হয়ে গেছে এই মিলন

তাই, একযুগ পরেও খুনের মোটিভ
সম্ভবত অন্ধকারে এবং তদন্তকারী

ওই চুলের সূত্র ধরে আসামি চিহ্নিত করে।
তাতে কার কী? বেশ তো ছিল অনুরাগে

কীসের থেকে কী যে হয় জীবন ফ্লাশ দিলে…


স্বীকারোক্তি দিয়েছে সে, প্রথমে
রেইকি করে প্রফেশনাল কিলার

সঙ্গে দোসর শুভাগত। কী হয় তাঁর
এই সম্পর্ক? করেছে সে অস্বীকার

সে জন্য শিকারের এত নেশা, এত
হাইভোল্টেজ শিরা আর মনের বিচ্যুতি

ভাড়া করা খুনি শুধু রড ঢুকিয়েছে যৌনাঙ্গে
কী নৃশংস আর ভয়ঙ্কর রাত্রি

পাশের পুকুর থেকে উদ্ধারকৃত ছুরি ও রড
তেমনটি আর নেই; ওরা এখন শান্ত

পুরুষের দাসত্ব করেছে কেবল
প্রেমিকের ছায়াও দেখেনি আসবাবপত্র…


তদন্তে উঠে এসেছে, পুলিশের থার্ড ডিগ্রিতে
সে বলেছে, সে শুভাগত নয়! তবে?

এতক্ষণ বানানো গল্প চালিয়েছে রিয়াজ।
রিয়াজই তার আসল নাম? সন্দেহ

নতুনগ্রামে বাড়ি, এই মহিলা তার ফেসবুক ফ্রেন্ড
স্বামী নেই, বছর পাঁচেক আগে স্বেচ্ছায়

চলে এসেছে এই সাহা পাড়ায়। বাবার
মজুত সম্পত্তিতে আরও নীল স্বপ্নের টান…

পরিচয়। অতঃপর আসা যাওয়া
মধ্যস্থতায় সংশোধন সংসার

কী ভালো আর নরম রৌদ্র…


আই কার্ড কিংবা আধার কার্ডে নাম
প্রিয়া। বয়স চৌত্রিশ। জ্যোৎস্নামাখা মুখ

সম্ভবতঃ সে-কারণেই কসাই রিয়াজ
মাংস কাটার ছন্দহীন আলো ঢেলে

দেখেছে তাকে। ঘুমের অন্তরে রেখেছে
মৃগনাভির এক একটা রঙিন হাসি

প্রেম পর্বের ভিতরে আর এক পর্ব
কার্যত রাধার বেশে অকাল সন্ধ্যা

সেই ছিল, এই মধ্যরাতের ঈর্ষা
খুব কাছে এলে কিছুই থাকে না দেহ ছাড়া…

১০
ভুল কি শুধুই সময়ের? ভুল হয়ে যায়
শুকনো পাতার। ঝুপ করে পড়ে বাঁশের ফল

তলিয়ে গেছে বিনির্মাণের পালকিতে।
যাইহোক পুলিশ এখনো খুঁজছে ওই

ভাড়াটে খুনিকে। তার গায়ের রং শ্যামলা
এক অপরাধীর বর্ণনায় আর এক

অপরাধী স্কেচ আঁকা হল পেন্সিলে
এবং যথাযথ বড়শি ফেলে তাকেও

ধরা হল, পাশের এলাকার
রাজনৈতিক নেতার আস্তাবলে।

ডান হাত কাটা এবং বাঁ হাতে
এমন নিকৃষ্ট জঘন্য কাজ করেছে সে

নাম : বুড়ো মস্তান। এক খুনে পঞ্চাশ হাজার
প্রয়োজনে মাংস কোচালে করলে আরও কুড়ি!

১১
এবার আরও আশ্চর্যের! বুড়ো জানিয়েছে
ও নাকি রিয়াজ নয়। রকি নাম ওর

কী সাংঘাতিক নাম বদলের খেলা
প্লিজ ধর্ম জানতে চাইবেন না

রকি হিন্দু মুসলিম খ্রিস্টান কিংবা
আরও অনেক কিছুই হতে পারে

তবে খুনির একটাই পরিচয় সে খুনি
এখন প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে খুনি বলা হোক

এরকম কিছু লোকও জড়ো হয়েছে ইদানীং!

১২
মাংসের দোকানে ডিজে মিউজিক
এমন অভিনব কায়দায় ছাগলের সিনা

থেকে শুরু করে সমগ্র চর্বি এবং
পরম আদরে আদর্শবান ভদ্রলোকের

থলেতে ছুঁড়ে দিয়ে একটু হাসতো
যেন সোহাগের বিছানায় মিষ্টি রোদ্দুর

সেই লোক কীভাবে এতটাই শুদ্ধতার বকুল
না হয়ে সার্কাস আক্রান্ত মনোবিকারগ্রস্ত?

রকি স্বীকার করেছে, মাংস কাটতে কাটতে
ঘিলুর দৃশ্যাবলি তাকে অদ্ভুত আনন্দ দিত…

১৩
দোকান খুলে সার্চ করে পাওয়া গেল
এক বান্ডিল কাগজ। প্রতিটা কাগজে

সে লিখত নীলা! লোকে বলে সবার নাকি
সয় না। এমনকি বালিশের তলায়ও

নীলা লেখা সব কাগজ! এরকম আসামি
বিগত দশ বছরেও পেয়েছে কিনা

মনে পড়ছে না সাব ইন্সপেক্টর অমিয়র
তাহলে খুনের মোটিভ কী? ওই মহিলার

নাম তো প্রিয়া। নীলা কে? নাকি ইনিও
চলছে খোঁজ ফোনের সূত্র ধরে

কত কি যে রয়ে যায় দৃশ্যহীন হৃদয়ে!

১৪
এত বছর পর হঠাৎই এ কেস উঠবে
কে জানত? রকি এখন জেল হেফাজতে

কাল সকালে কোর্টে তোলা হবে
তার আগে সে অসুস্থ। তবে কি

অন্য কোনো ছক? স্বীকার করেছে
ত্রিকোণ প্রেম। কার দিক থেকে

কে শুনেছে আর্তনাদ? সে দেখেছে
তিন যোগ তিনের সমাহার! খুনখারাবি…

১৫
মহামান্য জজ সাহেবের কাছে
উকিলবাবু সমস্ত নথি সাজিয়ে দিলেন

সওয়াল করলেন অথচ দোষী হলেন
বিধাতা! রকিও সই করল হলফনামা

সবই গেল ভেস্তে। নতুন করে
সাজানো হল বাগান; পুলিশবাবুর
মধ্যপ্রদেশ গেল বেড়ে।

এরমধ্যেই প্রেমমহারাজ করলেন
সুইসাইড!
বোধ নৌকা গেল সেই যমুনার তীরে…

Spread the love
By Editor Editor কবিতা 11 Comments

11 Comments

  • প্রায় সবকটিই বেশ সুন্দর। কবি আরও পড়বার জন্য উৎসুক রইলাম…

    Kaushik Sen,
  • অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। চেষ্টা করব।

    বিশ্বজিৎ দাস,
  • Crime tanle ase khuni , khun tanle crime .
    Bhalo laglo , cchonder kaj !

    Samanwaya,
  • ভালোবাসা নিও সমন্বয়

    বিশ্বজিৎ দাস,
  • কী ভালো লিখেছেন!
    একটা অসম্ভব গতি আমাকে আপনার কবিতা পড়িয়ে নিল।

    Ranajit Adhikari,
  • কী অসম্ভব ভালো লিখেছেন।
    একটা গতি আমাকে আপনার কবিতা জোর করে পড়িয়ে নিল।

    Ranajit Adhikari,
  • ভালোবাসা নেবেন দাদা

    বিশ্বজিৎ দাস,
  • ভালো লাগলো। একটি রহস্য উপন্যাসের চারাগাছ কবিতা সিরিজের মধ্যে পেলাম।

    ভজন দত্ত,
  • ভজনদা ভালোবাসা

    বিশ্বজিৎ দাস,
  • ক্রাইম কবিতা নতুন একটি ভাবনা হতে পারে । বেশ দীর্ঘ । উপন্যাসসম স্বাদ । কবিতায় গল্প বলা যেতে পারে । তবে ব্যক্তিগতভাবে আরো বেশি কবিতা আশা করেছিলাম । কিছু নির্দিষ্ট লাইনগুলোয় তা চোখে পড়েছে ।

    শুভদীপ আইচ,
  • অনেক ধন্যবাদ আপনাকে

    বিশ্বজিৎ দাস,
  • Your email address will not be published. Required fields are marked *