Categories
কবিতা

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের কবিতা

জন্মভূমিতে

এই সেই পঁয়ষট্টি বছরের ডাক।
এখনো কৃষিফার্মের সেই ঘেরাটোপে কালি গাই
যায়।
হতে পারত অন্য এক ছবি।
হতে পারত চুরি করে ধরা পরা সেই বিধর্মী নামের টলটলে এক পিপাসার হ্রদ।
কিন্তু তার বদলে যা হলো
তাতে, এজন্মের প্রভু ষাঁড়ের গুঁতোর কাছে একরকমের হেরেই যাওয়া।
তবুও সারাদিন ধরে গোয়ালে কালি গাই
ডেকে যায়— হাম্বা…

ডিকশনারি ঘেঁটে জেনেছি,
এর মানে—
আয়
জন্মভূমিতে ফিরে আয়…

তামার পয়সা

এ কোন তামার পয়সা!
খরচ করতে বলেছে বিবেকের ডাক।

কোর্ট চত্তরে সেদিন দেখা হলো পুলিশের গাড়ির চালক মৃত
নিরঞ্জন গোপের সাথে।
আসামীদেরকে বিচারের কাঠগড়ায় তুলে দিয়ে
আমাকে দেখে এগিয়ে এসে বললেন—
আরে!
খরচের হিসাববাবদ এই এক আনা
আগুন-পানির মধ্য গুহার
আয়কর বিবরণীর বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের ভেতরে রেখে করবেন কী?

বয়ে যেতে যেতে নদীর স্বরে
বললাম—
অধঃযাত্রার দর্শন লেখা আছে এই তাম্র নয়া পয়সাতে।
ভাবছি, আঁতুড়ঘরের পোয়াতি আষাঢের গর্ভ থেকে বৃষ্টি
ওঁয়া করে ডেকে উঠলেই
নব বাংলার কোমরের ঘুনশির সাথে বেঁধে দেব এক আনার গুরুগুরু মেঘের ডাক।

ডেকোরেশন

মাইকেল জ্যাকসন বাজাচ্ছে কেউ।

এই মধ্যরাতেই চেনা জনপদটা মাইল মাইল ছোটে জোড়াসাঁকো ছাড়িয়ে।

রবিবাবু এখন ফ্রিজে জমানো পুডিং-এর মতো জমে আছেন বলে
কাছাকাছি কোনো টুরিস্ট স্পটে আমরা ক’জন
সত্যাগ্রহে বসেছি হাওয়ার গতিবেগের ওপর কিসমিসএর ডেকোরেশন হয়ে।

দশমাংশ

আজকাল পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পগুলোতে কারা যেনো পেছন থেকে কথা বলে
আর পুতুলনাচের মতো নায়কনায়িকা টালিগঞ্জের ছাদে প্রচ্ছদ আঁকা টিপ হয়ে বয়সহীন চাঁদের মতো অমাবশ্যা আর পূর্ণিমার ঘরে যাতায়াত করে।
এসব দেখে রাতের পার্কসার্কাস থেকে থানা মোড় হয়ে সেই যে নতুন সিনেমায় রোল পাওয়া রাস্তার ভুলু দৌড়ুচ্ছে তো দৌড়ুচ্ছেই…

এরপর, ঘেউ ঘেউ ডাককে এডিটিং সেকশনে
ক্রমিক অনুযায়ী কিছুতেই ধারাপাতের দশমাংশে আনা যাচ্ছে না।

গিটার

বাড়ি ভাঙার আগে গুগল বলেছে
আড়াআড়িভাবে ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশ মেপে ভাঙতে হবে।
এতসব নিয়ম মেনেও
বুকের ভেতরে গঙ্গা-পদ্মার
পলির অনেক নীচে
প্রাচীন ইথিওপিয়া খানখান করে গিটার বাজাচ্ছে।

4 replies on “শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের কবিতা”

নতুনত্বের ছোঁয়া পেলাম ।
কুর্ণিশ মান্যবর কবি।

অনেকদিন পর এমন মরমি কবিতা পেয়ে মন অনেকখানি শুশ্রূষা পেল।ছাই ভস্মের কবিতা পড়ে পড়ে কেমন যেন চারশো স্কয়ার ফিটের কমার্শিয়াল ফ্ল্যাট হয়ে যাচ্ছিলা।ভালো লাগল এ দেশের জলাজঙ্গলের নিজস্ব কবিতা পড়ে।

বেশ একটা রেশ থেকে যায় প্রতিটা কবিতা পাঠের পর। খুব সুন্দর কবিতা গুলি। কবিকে বিনম্র শ্রদ্ধা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *