Categories
কবিতা

সৌভিক গুহসরকারের

বেকারের বারোমাস‍্যা থেকে


কবির বড়ো বাড়ি নয়
তরবারি চাই


ঘষতে থাকা ভালো
ঘষতে ঘষতে পরাজিত পাথরেও আগুন জ্বলে ওঠে


নিজেকে কবর থেকে টেনে তুলে দেখি,
এখনও যথেষ্ট মৃত‍্যু হয়নি আমার


আঘাত ভ্রমর হয়ে হুলের ছোবল দিলে
নিজেকে ফুলের মতো লাগে


ফিনকি দিয়ে রক্তে ভেজে ঘাস
আঘাত টেনে গুঁড়ি মেরে পাতার আড়ালে লুকোই
শিকারীরা ল‍্যাজ গুটিয়ে কুঠারে ফিরে গেলে

চেটে খেয়ে চিনতে শিখি নিজের রক্ত


অপমানের পথ পেরোচ্ছি, কতটা শিখরে ওঠা যায়, জানো?

ডানা ভেঙে দিয়েছে। টানছি আমার রক্তামাখা পালক। থুতু ছিটকে আসছে গায়ে। কারা কাদা মাখিয়ে গেল মুখে? কারা ভাঙা ডানার ফাটলে ঢেলে দিল ফুটন্ত তেল? কারা পায়ের তলায় ঢেলে দিল কাচের টুকরো?

আঘাতের বাঁশি পেরোচ্ছি, কতখানি সুর ওঠে দেখি!


যে যার চান সেরে কাজে চলে যাচ্ছে, তুমি এখনও বালতির দিকে তাকিয়ে ভাবছ?

বেলা বাড়ন্ত। সকলে অফিস যাচ্ছে দাঁত চেপে ঝোলাঝুলি করে। তুমি কোথায় যাবে? চাকরি ছেড়ে অন্ধ স্বাধীনতায় একা বসে আছো। কল থেকে জল পড়ছে অতল…

তুমি এখনও বালতির দিকে তাকিয়ে ভাবছ?


শনি নয়, এখন ভিখিরির দশা। ঝোলায় কিছু আছে?
সম্ভাবনা, আলো, ধনুক,
নিদেনপক্ষে একটিও ধ্রুবতারা;

আর কিছু নেই, মাথা-সোজা-করে দাঁড়ানোটুকু ছাড়া


আমরা সবাই আহত কানা মাছি
পরাজয়ের হাওয়ায় ধাক্কা খেয়ে

জেদের বশে তবুও বেঁচে আছি!

3 replies on “সৌভিক গুহসরকারের”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *