শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের গদ্য

 ডায়েরি 

ওই যে বাড়িটা! চিনতে পারছেন? জলের মতো সহজ সরল??
কবেকার পুরানো চালার নীচে দাঁড়িয়ে আছে, একা একাই!!
চারটে পা আছে বলে ওকে কেউ মানুষ ভাবেনি কোনোদিন!
ভাবেনি বলেই ভোগ আর দুর্ভোগের মাঝে প্রাচীর তুলে বাড়িটা দ্বিধা বিভক্ত হয়ে গেছে। এখনো ওর চালের ওপর দিয়ে রোদ্দুর হেঁটে যায়। সঙ্গে সর্বক্ষণের সাথী একটা নাতি উচ্চতায় উড়ন্ত পাখি। পাখির ঠোঁটে লেগে থাকা লোহিত সাগরের জল? সেও ভাসে! ভাসতেই থাকে মেঘের মতো করে বাড়ি ও পাখি’র নিভৃত সংলাপ। উড়তে চাই, বললেই পাখি দেখায় বাড়িকে, ওই দ্যাখো!! বনবীথির মতো অবিকল দেখতে মাসকাবারি দোকানের চাল ডাল তেল নুনের খাতা। দ্যাখো, চাঁদের মতো সন্তানের জন্য, নিত্যনতুন ঘাস গজানো আবদারের মতো তুলতুলে নরম তুন্দ্রা অঞ্চল। উড়তে উড়তেই দুটো ডানার ফাঁক দিয়ে পাখি চেনায় ষোলো হাজার ফিট উচ্চতায় হিমালয়ের কোলে বরফের চাঙর পরা বহু পুরানো অন্ধকার গিরিখাত। এসব গল্প বলার মাঝে পাখি ও বাড়ির হাসির শব্দে ভালোবাসা মাঝে মাঝেই নীড় হয়ে যায়। কঠিন বরফ গলে জল হয়ে যায়। পাহাড়িয়া বাতাস বড়ই এলোমেলো! উজার করে দেয় সব কিছু। আবার উলটোপালটা করে দেয় অনেক কিছুই। ওখানে রিখটার স্কেল কোনো কাজ করে না। কেননা, সেখানে কোনো মানমন্দিরই যে নেই!!
তাই, ভূমিকম্পের পরে পড়ে থাকে দেহের ধ্বংসস্তূপ! মৃত নামক জীবনের পাল্টা স্তূপ! রেসকিউ কোম্পানিগুলোও আজকাল এসব বোঝে। বোঝে বলেই কড়িবরগা, ইটের পাজর খুঁজে সবার আগে তুলে আনে মুদির দোকানের মাসকাবারি খাতাটিকে। ততক্ষণে? ততক্ষণে পাখি ও বাড়ি সমার্থক হয়ে যায়। গোবরে নিকানো বাড়ির উঠোনে ছায়ার আল্পনা ভেঙে ভেঙে কোজাগরী খানখান হয়ে যায়। আর সেই জীর্ণ খাতা খানা? মাসকাবারি সেই তেল নুনের হিসেব? কিংবা নিদেনপক্ষে ষোলো আনায় এক বস্তা সিমেন্টের হিসেব? জীবনের সব হিসেব একদিন গঙ্গা নদীর উৎসের মতো, গোরুর মুখ চুইয়ে ঝরা জলের লালার মতো অক্ষাংশ আর দ্রাঘিমাংশের দাগ কাটা আকাশ হয়ে যায়। আকাশে উড়ন্ত আজ কাল পরশুর উদ্বোধনের বেলুন হয়ে, বার্ষিকগতির মতো ঢাউস একখানা ডায়েরি হয়ে যায়।

সম্প্রতি, নৃতত্ত্ববিদের হাত থেকে মানুষের টানা গোরুর গাড়ির চাকায় বর্ষার কাদা জমা দুর্লভ এই সংখ্যাটি পাওয়া গেছে ডব্লিউ ডব্লিউ ডট পুস্তক মহল ডট কমে।

শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের গদ্য

আমাদের নতুন বই