লেখক নয় , লেখাই মূলধন

শাশ্বত ভট্টাচার্য্যের প্রবন্ধ

গান্ধীজি ও শান্তিনিকেতন

তারিখটা ১৭ই ফেব্রুয়ারি ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, শান্তিনিকেতন জুড়ে চারিদিকে সাজোসাজো রব, যেন এক ব্যপক মহাযজ্ঞের আয়োজন চলছে, যে গান্ধীজির অদম্য শক্তি সমগ্র আফ্রিকাবাসী ভারতীয়দের মহাশক্তিধর ইংরাজের বিরুদ্ধে দাঁড়াবার শক্তি দিয়েছে, আজ কিনা তাঁরই পদধূলি ধন্য হতে চলেছে শান্তিনিকেতন, এ অপেক্ষায় সকলে যেন ক্রমশ অধীর হয়ে উঠেছে, মানুষের আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা সে যেন আর বাগ মানে না! দেখতে দেখতে দুপুর গড়িয়ে হল বিকেল, অবশেষে বহুপ্রতীক্ষার হল অবসান, শান্তিনেকেতনের পুণ্যভূমিতে পদার্পণ করলেন সস্ত্রীক গান্ধীজি। যদিও অসুস্থতার কারণে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারলেন না গুরুদেব, তথাপি মহাত্মার আদরযত্নে ত্রুটি রইল না এতটুকুও, যথারীতি আশ্রমের প্রথা মেনে শুরু হল অনুষ্ঠান, পুষ্প-চন্দনাদির অর্ঘ্য সহযোগে সাদরে বরণ করে নেওয়া হল তাঁদের, কলাভবনে দেওয়া হল সংবর্ধনা, ভারতীয় বাদ্যযন্ত্র সহকারে সঙ্গীত পরিবেশন করলেন আশ্রমের সঙ্গীতাচার্য্য ভীম শাস্ত্রী মহাশয় এবং সবশেষে ক্ষিতিমোহন সেন ও দু’জন মহারাষ্ট্রীয় অধ্যাপককর্তৃক বেদমন্ত্র পাঠ ও তার বাংলা এবং গুজরাটি অনুবাদের মধ্য দিয়ে শেষ হল অভ্যর্থনা। আয়োজনে আপ্লুত হয়ে গান্ধীজি বললেন, “আজ যে আনন্দ অনুভব করিলাম ইতিপূর্বে সে আনন্দ অনুভব করি নাই। আজ আশ্রমগুরু রবীন্দ্রনাথ আমাদের মধ্যে সশরীরে যদিও এখানে নাই, তথাপি তাঁহার সহিত প্রাণের যোগ অনুভব করিতেছি। ভারতীয় রীত্যানুসারে এখানে অভ্যর্থনার আয়োজন হইয়াছে দেখিয়া আমি বিশেষ আহ্লাদিত হইয়াছি। আমরা প্রাচ্য আদর্শের মধ্য দিয়েই আমাদের লক্ষ‍্যের নিকটবর্তী হইবো”, তাঁর সে বক্তব্য শুনে চারিদিকে “সাধু সাধু” রব উঠল। তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবার জন্য আশ্রমে আসেন মৌলানা সওকত আলি। তবে এ যাত্রায় তাঁর বেশিদিন শান্তিনিকেতনে থাকা আর হল না। ১৯শে ফেব্রুয়ারি হঠাৎ সংবাদ এল, তাঁর রাজনৈতিক গুরু গোপালকৃষ্ণ গোখলে আর ইহলোকে নাই, শোকাহত গান্ধী তৎক্ষণাৎ এক সভার অধিবেশন ডাকলেন, তাঁর অনুরোধে আশ্রমের ছাত্রদের নিকট পরলোকগত কর্মবীরের জীবনি সংক্ষেপে তুলে ধরলেন অনুষ্ঠানের সভাপতি মহাশয় তথা আশ্রমের সর্বজনপ্রিয় অধ্যাপক নেপালচন্দ্র রায় মহাশয়। অতঃপর ২০তারিখ আশ্রম থেকেই খালি পায়ে বোলপুর স্টেশনে যাত্রা করলেন গান্ধীজি ও তাঁর স্ত্রী। আশ্রমের অনেকেই হাজির হয়েছিলেন তাঁকে বিদায় জানাবার উদ্দেশ্যে। দিন পনেরো পর ৬ই মার্চ, গান্ধীজি ও কস্তুরবা আবার ফিরে এলেন আশ্রমে। ততদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছেন গুরুদেব, প্রথমবারের মতো গান্ধীজির সাথে সাক্ষাৎ হল গুরুদেবের, এ যেন দুই মহাপুরুষের মিলন। গান্ধীজি প্রস্তাব দিলেন, প্রাচীন গুরুকুলের আশ্রমের ব্যবস্থার ন্যায় শান্তিনিকেতনেও ছাত্রছাত্রীদের স্বাবলম্বী হতে হবে, নিজের সমস্ত কাজ নিজেকেই করতে হবে, গুরুদেব সম্মত হলেন। অধিকাংশ শিক্ষক ও কর্মী ,বিশেষত যাঁদের বয়স তুলনামূলক কম, এ প্রস্তাবে অন্তত উৎসাহিত হয়ে উঠলেন, খালি জগদাদন্দবাবু, শরৎ বাবু ও কালীমোহন বাবুসহ কয়েকজন ব্যবস্থাটি অযৌক্তিক মনে করে দূরে সরে রইলেন কারণ তাঁদের মনে হয়েছিল যে, আড়াইশো-তিনশো লোকের রান্না, বাসনকোসন মাজা, জল তোলা এবং অন্যান্য যে সমস্ত আনুষঙ্গিক ভারি কাজকর্ম ঠাকুর-চাকররা করতেন, সেসব কাজ সেরে আর যাইহোক ঠিকভাবে পড়াশোনা করা কিংবা পড়ানো কোনোটাই বোধহয় সম্ভব নয়।

যাইহোক, অবশেষে গান্ধীজির ইচ্ছামত ১০ই মার্চ আশ্রমে স্বাবলম্বনের এ ব্যবস্থার সূত্রপাত হলো, যেদিনটিকে স্মরণ করে আজও পালন করা হয়ে থাকে ‘গান্ধীপূন্যাহ’। ১১ই মার্চ সকালে সস্ত্রীক গান্ধীজি শান্তিনিকেতন ছেড়ে রওনা দিলেন রেঙ্গুনের উদ্দেশ্যে, তবে রেখে গেলেন তাঁর প্রিয় ফিনিক্স স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের, যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দেবদাস গান্ধী। কুড়িদিন বাদে আবার শান্তিনিকেতনে ফিরলেন, তবে এবার আর থাকলেন না, ফিনিক্স স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চলে গেলেন কুম্ভমেলায়। ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯২০, কবির অনুপস্থিতিতে আশ্রম প্রধান আণ্ড্রুজের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে কলকাতায় কংগ্রেসের বিশেষ অধিবেশন শেষে গান্ধীজি আবারও এলেন শান্তিনিকেতন, তবে এবার শুধু তিনি ও তাঁর স্ত্রী কস্তুরবা নন, সঙ্গে এলেন দেবদাস, জওহরলালসহ একাধিক গন্যমান্য নেতৃবৃন্দ। ধীরে ধীরে দেশব্যাপী শুরু হল অসহযোগ আন্দোলনের জোয়ার, আর তার আঁচ এসে পড়ল শান্তিনিকেতনেও,প‍্যারিস থেকে পাঠানো চিঠিতে আ্যণ্ড্রুজকে কবি বললেন, “I find our countrymen are furiously excited about non-cooperation… Such an emotional outbreak should have been taken advantage of in starting independent organizations all over India for serving our country. Let Mahatma Gandhi be our true Leader in this; let him send his call for positive service , ask for homage in sacrifice, which has its end in love and creation”। কিন্তু যখন তিনি উপলব্ধি করলেন যে, তাঁর সাধের শান্তিনিকেতনও ক্রমশ দেশব্যপী ঘটে চলা অসহযোগের রাজনৈতিক চক্রে আবর্তিত হয়ে অশান্ত ও চঞ্চল হয়ে উঠছে, তিনি তা সমর্থন করতে পারলেন না, তাঁর মন তখন শান্তিনিকতনের নিভৃতে বিশ্বভরতীকে বৃহত্তম পটভূমি রূপে গড়ে তোলা তথা সর্বমানবের অতিথিশালায় পরিণত করার স্বপ্নে বিভোর, শঙ্কিত কবি হল‍্যান্ড থেকে আণ্ড্রুজকে ৩রা অক্টোবর ১৯২০খ্রিস্টাব্দে লেখা এক চিঠিতে জানালেন, “শান্তিনিকেতনকে ধূলিময় রাজনীতির ঘূর্ণিবায়ু হইতে রক্ষা করিতে হইবে। কয়েকদিন পর ১৮ই অক্টোবর লণ্ডন থেকে তিনি আবারও লিখলেন, “আমাদের সত্যদৃষ্টি পরিপ্রেক্ষণীর সহিত পরিবর্তিত হয়; আমি অনুভব করিতেছি রাজনৈতিক অশান্তির জন্য ভারতের স্বচ্ছদৃষ্টি ক্রমেই আচ্ছন্ন হইয়া আসিতেছে। রাজনীতিকদের সবুর সহে না, তাঁহারা দ্রুত ফলাকাঙ্খী। কিন্তু সর্বমানবের এবং সর্বকালের যে প্রয়োজন, তাহার জন্য ধৈর্য্য ধরিয়া অপেক্ষা করিতেই হইবে।… মহামানবের প্রকাশের জন্য শান্তিনিকেতন… এ প্রার্থনা তখনো ধুনিবে, যখন সকল দেশের ভৌগোলিক সীমানা অর্থহীন হইয়া যাইবে।” ৪ঠা নভেম্বর তিনি আমেরিকায় পৌছে নিউইয়র্ক থেকে আণ্ড্রুজ সাহেবকে আরও একবার শান্তিনিকেতন সৃষ্টির মুখ্য উদ্দেশ্যখানি স্মরণ করিয়ে লিখলেন, “আমি জানি ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনা যেভাবে তীব্র হইয়া উঠিতেছে, তাহা হইতে শান্তিনিকেতনকে রক্ষা করা কঠিন। কিন্তু আমরা যেন ভুলিয়া না যাই যে, আমাদের আদর্শ রাজনৈতিক নহে; আমি যখন রাজনীতি করিব, তখন আমি শান্তিনিকেতনের কেহ নহি”। ১৯২২খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত শান্তিনিকেতন পত্রিকা থেকে জানা যায়, ‘গত ১৮ই মার্চ, মহাত্মাজীর কারাবাসের প্রথম দিনে পূর্ব ও উত্তর বিভাগের ছেলেরা ও মেয়েরা অনেকে একবেলা উপবাস করিয়াছিল। সন্ধায় কলাভবনে একটি সভা হয়।’ ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দের ২৯শে মে, তাঁর চড়কানীতি প্রসঙ্গে কবির সাথে আলোচনার উদ্দেশ্যে গান্ধীজি আবার এলেন শান্তিনিকেতন। কথিত আছে কবি যখন গান্ধীজিকে তাঁর শান্তিনিকেতন বাড়ির দোতলার পুষ্প ও পত্রশোভিত ঘরে নিয়ে গেলেন, তখন গান্ধীজি এমন সজ্জার কারণ বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করে বসেন, “আপনার আমাকে এ বিবাহবাসরে নিয়ে আসার কারণ কী?”, কবি খালি মুচকি হেসে বলেন, “আমাদের চিরতরুণী রানী আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছে”। তবে শুধু চড়কানীতিসহ অন্যান্য প্রসঙ্গে আলোচনাই নয়, হাতেকলমে বিদ্যাচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা বুনিয়াদি শিক্ষাবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য এলেন শিক্ষাসূত্র। এ প্রসঙ্গে এলমহার্স্ট লিখেছেন, “Gandhi paid a visit to this school and was so impressed that he urged Tagore to loan him the service of the headmaster of Siksha Satra to help him plan an all India revolution to Primary Education. Tagore laughingly volunteered on the spot to be Gandhi’s first Minister of Education”। ১৯৩২খ্রিস্টাব্দে গান্ধীজি যেদিন ব্রিটিশ সরকারের কূটনৈতিক সাম্প্রদায়িক ভেদনীতির বিরুদ্ধে অনশনের সূচনা করলেন, কবিগুরুর শান্তিনেকেতনেও বহুলোক উপবাসী থাকলেন।সেদিন প্রাতে মন্দিরে উপাসনায় কবি বললেন, “যিনি সুদীর্ঘকাল দুঃখের তপস্যার মধ্য দিয়ে সমস্ত দেশকে যথার্থভাবে, গভীরভাবে, আপন করে নিয়েছেন, সেই মহাত্মা আজ আমাদের সকলের হয়ে মৃত্যুব্রত গ্রহণ করলেন।” ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে কবি যখন ভগ্ন শরীরেও বিশ্বভারতীর অর্থসংকট নিবারণের জন্য অর্থসংগ্ৰহের উদ্দেশ্যে অভিনয় দল নিয়ে পাটনা, এলাহাবাদ, লাহোরসহ একাধিক শহর ঘুরে দিল্লিতে পৌছলেন, সে সংবাদ গান্ধীজির নিকট পৌছনো মাত্র তিনি নিজে এগিয়ে এলেন অর্থসাহায্যের উদ্দেশ্যে, প্রয়োজনীয় ৬০ হাজার টাকার একটি চেক তুলে দিলেন কবির হাতে এবং ভগ্ন শরীরে এভাবে অর্থসংগ্রহের জন্য সফর করতে নিষেধ করলেন। গান্ধীজি সস্ত্রীক শেষবারের মতো শান্তিনিকেতনে পদার্পণ করেন ১৯৪০খ্রিস্টাব্দের ১৭ই ফেব্রুয়ারি। সেদিন অপরাহ্নে আম্রকুঞ্জে গান্ধীজির সংবর্ধনা হল, স্বয়ং কবি তাঁকে মালাভূষিত করে স্বাগত জানিয়ে বললেন: “I hope we shall be able to keep close to a reticent expression of love in welcoming you into our Ashrama and never allow it to overflow into any extravagant display of phrases. Homage to the Great naturally seeks its manifestation in the language of simplicity and we offer you these few words to let you know that we accept you as our own as one belonging to all humanity”। গান্ধীজিও প্রতিভাষণে বললেন যে, শান্তিনিকেতন আসলে তাঁর মনে হয় যেন নিজ গৃহে আসিয়াছেন,এবং ১৯১৫ খৃস্টাব্দে শান্তিনিকেতনের আতিথ্যের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, সেদিন যখন তাদের মাথা গুঁজবার স্থানটুকুও কোথাও ছিল না, তখন এই শান্তিনিকেতনেই তাঁরা আফ্রিকা থেকে এসে আশ্রয় পান। সেই সময় থেকেই তিনি অনুভব করে এসেছেন, গুরুদেব তাঁকে কী ভালোবাসেন। তিনি গুরুদেবের আশির্বাদ পেয়েছেন এবং তাঁর অন্তঃকরণ পূর্ণ হয়েছে। সন্ধ্যার পর উত্তরায়ণের প্রাঙ্গণে তাঁর জন্য ‘চণ্ডালিকা’ নৃত্যনাট্য অভিনীত হল। হরিজন পত্রিকার সাংবাদিক লিখেছেন যে, গান্ধীজিকে এরূপ তন্ময় হয়ে অভিনয় দেখতে তিনি ইতিপূর্বে কখনো দেখেননি। ১৯শে ফেব্রুয়ারি ১৯৪০, শান্তিনিকেতন ছাড়বার পূর্বে গুরুদেব গান্ধীজির হাতে একখানি পত্র দিয়ে অনুরোধ করলেন, তাঁর অবর্তমানে বিশ্বভারতীর প্রতি তাঁর দৃষ্টি নিক্ষেপ করার জন্য। গান্ধীজিও কলকাতা যাবার পথে পত্র মারফত বিশ্বভারতীর স্থায়ীত্ব সম্পর্কে যথাযথ সাহায্য করবার বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করেন।

গান্ধী ও রবি ঠাকুরের মধ্যে বহুবার মতবিরোধ ঘটেছে, দানা বেঁধেছে বিতর্ক, তা কখনো গান্ধীজির চড়কানীতি নিয়ে , কখনো আবার তাঁর অস্পৃশ্যতা সম্পর্ক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, কিন্তু প্রতিবারই ভিন্নতাকে তাঁরা প্রকাশ করেছেন অকপটভাবে, সুস্পষ্ট ভাষায়, অথচ পরস্পরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রক্ষা করে। আর তাঁদের এই অম্লমধুর সম্পর্কের সাক্ষী হয়ে দুই মহামানবের মিলনতীর্থ রূপেই চিরকাল দাঁড়িয়ে রয়েছে গুরুদেবের সাধের শান্তিনিকেতন। শান্তিনিকেতনের সাথে গান্ধীজির যোগাযোগ ছিলো আত্মিক, তিনি বলেছিলেন, “The visit to Santiniketan was a pilgrimage to me.Santinikeran is not new to me. I was first there in 1915 when it was yet taking shape not that it is not doing so even now. Gurudev is himself growing. Old age has made no difference to the elasticity of his mind. Santiniketan will, therefore, never cease to grow so long as Gurudev’s spirit broods over it”। শান্তিনিকেতনের মাটিতেই গান্ধীজি ভূষিত হন ‘মহাত্মা’ উপাধিতে। গান্ধীজি কথা রেখেছিলেন, গুরুদেবের মৃত্যুর পরও তিনি যথাসম্ভব অর্থসাহায্যের হাত বাড়িয়ে বিশ্বভারতীকে সযতনে লালিতপালিত করেন। পরিশেষে, আরো একটিবার স্মরণ করা যাক গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে গুরুদেবের গান্ধী মহারাজ কবিতার কয়েকটা পংক্তি:

‘গান্ধী মহারাজের শিষ্য
কেউ-বা ধনী কেউ-বা নিঃস্ব
এক যায়গায় আছৈ মোদের মিল-
গরিব মেরে ভরাইনে পেট,
ধনীর কাছে হইনে তো হেঁট
আতঙ্কে মুখ কভু হয় না কভু নীল।
ষণ্ডা যখন আসে তেড়ে
উঁচিয়ে ঘুঁসি ডাণ্ডা নেড়ে
আমরা হেসে বলি জোয়ানটাকে,
‘ঐ যে তোমার চোখ-রাঙানো
খোকাবাবুর ঘুম-ভাঙানো
ভয় না পেলে ভয় দেখাবে কাকে।’

তথ্যসূত্র:
১। রবীন্দ্রজীবনী— প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
২। শিক্ষাসত্র ও বুনিয়াদি বিদ্যালয়— প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
৩। A Gandhi-Tagore Chronicle: Visva Bharati
৪। তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

শাশ্বত ভট্টাচার্য্যের প্রবন্ধ

আমাদের নতুন বই